kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

লিবিয়ায় চক্রের হাতে জিম্মি মাদারীপুরের ২৪ যুবক

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাষার গ্রামের জনি মিয়াকে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী আটকে রেখে নির্যাতন করছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩ মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার দুই দিন পর মানবপাচারকারীচক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। এর পরই জানা যায়, শুধু জনি মিয়াই নন, তাঁর মতো ২৪ জন সেখানে চক্রের হাতে জিম্মি। টাকার জন্য তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

গত ৫ মে আটক চক্রের সদস্য জাহিদ খান ইউসুবকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর মানবপাচারের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে।

এলাকাবাসী বলছে, পাচারকারীরা নির্যাতন করে সেসব ভিডিও ওই সব ব্যক্তির পরিবারের কাছে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা দাবি করছে। বন্দি ২৪ জনের মধ্যে জনিসহ চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের বেশির ভাগের পরিবার এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হয়নি। কারণ তাদের আশঙ্কা, কথা বললে বা অভিযোগ করলে পাচারকারীরা তাদের হাতে বন্দি স্বজনকে হত্যা করবে।

জনি ছাড়া অন্য তিনজনের একজন হলেন হিফজু হাওলাদার। তাঁর বাড়িও চাষার গ্রামে। অন্য দুজন হলেন একই ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামের মো. আশাদুল খান ও মো. জাহিদুল ইসলাম। বাকি ২০ জনের বাড়িও মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায়।

হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবু হাওলাদার সাংবাদিকদর বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউসুবের মাধ্যমে দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সঙ্গে আমার আট লাখ টাকায় চুক্তি হয়। দুই লাখ টাকা আমি এরই মধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়া যাওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। দুই দিন আগে লিবিয়া থেকে ফোন আসে। তখন জানতে পারি, আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ার মাফিয়াদের হাতে আটক রয়েছে।’ তিনি জানান, জাহিদ খান ইউসুবকে বলার পর তিনি বলেছেন, হিফজুকে ছাড়িয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে নিশানা করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। দালালচক্র বিভিন্ন দেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে দিনের পর দিন। সাগরে ডুবে কিংবা পাচারকারীদের হাতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও আছে।

উল্লেখ্য, গত বছর জুনে লিবিয়ায় যে ৩০ জন অভিবাসীকে মানবপাচারকারী এক ব্যক্তির পরিবার গুলি করে হত্যা করে তাঁদের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের চক্রগুলো সেখানে বেশ সক্রিয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাষার গ্রামের একাধিক এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ খান ইউসুব এলাকায় খুব পরিচিত দালাল। তিনি চার-পাঁচ বছর ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। এ পর্যন্ত তাঁর মাধ্যমে জেলার তিন শতাধিক যুবক লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন, যার বেশির ভাগ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইতালি গেছেন। তাঁদের পাঠাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে। জাহিদ খান ইউসুবের কাজ হলো মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এমন যুবকদের সংগ্রহ করা। যাঁরা যেতে ইচ্ছুক তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে ৮-৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়। রুট হিসেবে তারা ব্যবহার করে ঢাকা থেকে লিবিয়া, তারপর সেখান থেকে ইতালি। সম্প্রতি জাহিদ খান ইউসুবের মাধ্যমে যাঁরা লিবিয়া গেছেন তাঁদের অনেকে এখনো ইতালি যেতে পারেননি। তাঁরা লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন। সর্বশেষ তাঁর মাধ্যমে যাওয়া ২৪ জন যুবক লিবিয়ার চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় জাহিদকে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলে না।



সাতদিনের সেরা