kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

লাগানো হবে এক হাজার গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এরই মধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতাস্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরার পরিবেশ নেই। উদ্যানের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্যদিক দিয়ে নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার পরিবেশও নেই। এখানে ভবঘুরে ও নানা রকমের মতলববাজ লোকের আনাগোনা। আমরা চাচ্ছি, একটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে পুরো উদ্যানটাকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে। যেখানে ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসনবিরোধী মুক্তিসংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসংবলিত ভাস্কর্য স্থাপন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ কার পার্কিং, শিশু পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান।’

হাবিবুল ইসলাম জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ’ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি জানান, এ মহাকর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে উদ্যানের কিছু গাছ কাটা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খণ্ডিত তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এতে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমে প্রায় এক হাজার গাছ লাগানো হবে। সারা বছর যাতে উদ্যানের কোনো না কোনো গাছে ফুল থাকে, মানুষ এখানে ঢুকে যাতে একটি বেড়ানোর আমেজ পায়, সেভাবে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বিন্যাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।



সাতদিনের সেরা