kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

সিপিডির জরিপ

প্রণোদনা পাওয়া ২৫ শতাংশ পোশাক কারখানায়ও ছাঁটাই

৩০% শ্রমিকের ভাষ্য, করোনার মাঝে কাজের চাপ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারির প্রথম ধাপে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিলেও ২৫ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা এ সময় কাজ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২১ শতাংশ আবার পাওনাও পাননি। আর ২১ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন যে তাঁরা আবার কাজ পেয়েছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা ও গাজীপুরের ১০২টি কারখানার ৪০০ পোশাক শ্রমিকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে ৩০০ কর্মরত ও ১০০ চাকরিচ্যুত শ্রমিক রয়েছেন।

‘তৈরি পোশাক খাতের প্রতি করপোরেট দায়বদ্ধতা : প্রেক্ষিত কভিড-১৯’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সরকার করোনার প্রথম ধাপে পোশাক শ্রমিকদের মজুরির জন্য ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেও কারাখানা মালিকরা শ্রমিকদের চাকরির সুরক্ষা দেননি। অনেক মালিক শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেছেন। এদিকে আবারও এপ্রিল, মে ও জুন—এই তিন মাসের প্রণোদনার জন্য সরকারের কাছে মালিকরা ধরনা দিয়েছেন।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ৩০ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন যে করোনায় তাঁদের কাজের চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে ২২ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, এ সময় কাজের ক্ষেত্রে তাঁদের হয়রানি বেড়েছে। কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ভয়ে তাঁরা কোনো অভিযোগ করেননি।

কভিডের এই সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই না করতে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও অনেক কারখানা মালিকই তা মানেননি। অথচ কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ফলে এখানে করপোরেট দায়বদ্ধতা খর্ব হয়েছে। এ ছাড়া ব্র্যান্ড ও বায়ারদের দায়িত্বশীল ভূমিকাও যথেষ্ট ছিল না। ট্রেড ইউনিয়ন ও ওয়ার্কার পার্টিসিপেটরি কমিটির (ডাব্লিউপিসি) আরো ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, বিশেষ করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত নয়, এমন ছোট কারখানায় করপোরেট দায়বদ্ধতা আরো বাড়ানো দরকার। প্রয়োজনে তাদের অ্যাসোসিয়েট মেম্বার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারখানায় হয়রানি কমাতে শ্রম আইনের স্থগিত ধারাগুলো আবার চালু করা যেতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, একটি বাইসাইকেলের মতো পোশাক খাত। এর এক চাকায় মালিক, অন্য চাকায় শ্রমিক। শ্রমিকদেরও ভালো থাকতে হবে। মালিকদের সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় যেন ব্যর্থ না হয়, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এ ছাড়া সমস্যা সমাধানে যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পোশাকের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। ন্যায্য মূল্য না পেলে মালিক ও শ্রমিকের টিকে থাকা কঠিন হবে।

শ্রমিক নেত্রী কল্পনা আকতার বলেন, তথ্যব্যাংক ভালো কাজে করা হলেও এটার এখন ব্যবহার করা হচ্ছে শ্রমিকদের কালো তালিকা করতে। কোনো শ্রমিক তাঁর অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিজেএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, সবচেয়ে বড় সংকট এখন পোশাকের ন্যায্য দাম না পাওয়া। এ ছাড়া বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে।

সিপিডির সম্মানিত অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য দেন বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শ্রমিক নেতা বাবুল আকতার প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা