kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

এক মাসেই অকার্যকর মুভমেন্ট পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মাসেই অকার্যকর মুভমেন্ট পাস

সরকারঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধের লকডাউনে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের জন্য পুলিশের চালু করা মুভমেন্ট পাস অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সক্রিয় থাকলেও কোথাও মুভমেন্ট পাস নিয়ে তৎপরতা নেই। স্বাভাবিক সময়ের মতোই বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। বিপণিবিতানগুলোয় উপচে পড়া ভিড়। ফেরিঘাটে ঈদে বাড়িফেরা মানুষের প্রবল চাপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালুর পর প্রথম পাঁচ দিনে প্রায় পাঁচ লাখ পাস ইস্যু করা হয়। আর ১৩ দিনে পাস নেয় ১৫ লাখ মানুষ। এরপর শুরু হয় ঢিলেঢালা অবস্থা। পরবর্তী ১৩ দিনে পাস নিয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ মানুষ। মুভমেন্ট পাসের ওয়েবসাইটে প্রথম ১৩ দিনে ২১ কোটি সার্চ হিট হয়েছে। এর পরের ১৩ দিনে হিট হয়েছে মাত্র দেড় কোটি। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মুভমেন্ট পাসের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েন মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে পাস যাচাই বন্ধ করা হয়নি।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, গত ১৩ এপ্রিল দুপুর ১১টায় চালুর পর থেকে গত শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ২০ লাখ ৩৩ হাজার ১৩৩টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশন করেছে আরো ১২ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৮ জন। ২৫ দিনে সাইটে হিট হয়েছে ২২ কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫টি।

তিনি বলেন, চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধ এখনো আছে। সবখানে আছে পুলিশের তল্লাশিও। তবে মার্কেট খুলে দেওয়ায় কিছু চলাচল বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু হতেই বাধার মুখে পড়ে কিছু মানুষ ভুয়া হয়রানির অভিযোগ তোলে। অনেকে না বুঝেই সমালোচনা শুরু করে দেয়। কিছু স্থানে জরুরি পেশায় নিয়োজিতদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এলিফ্যান্ট রোডের ঘটনার জেরে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মামুনুর রশীদকে বরিশালে বদলি করা হয়। জরুরি ১৮ পেশাজীবীদের চেকপোস্টে তল্লাশি বা হয়রারি না করার একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। এসব কারণে মূলত ঢিলেঢালা হয়ে গেছে মুভমেন্টের তল্লাশি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, এখন শুধু দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহন জেলার সীমানা পার হচ্ছে কি না, তা দেখছে পুলিশ। ছোট ব্যক্তিগত কোনো পরিবহন আটকানো হচ্ছে না।