kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতিসংঘকে আট সংস্থার চিঠি

মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতে উদ্যোগ নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সম্ভাব্য সব ধরনের আহ্বান জানাতে জাতিসংঘকে চিঠি দিয়েছে আটটি মানবাধিকার সংস্থা। গতকাল সোমবার বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবসে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটকে তারা ওই চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ইইউ ডেলিগেশনের প্রধান রেঞ্চা টিয়েরিংক, ইইউয়ের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত অ্যামন গিলমোর, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ম্যারি ললোর এবং জাতিসংঘের মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার আইরিন খানকে। চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ), কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস কমিশন, ফোরাম এশিয়া ও এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজ-অ্যাপিয়ারেন্স।

চিঠিতে ওই মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ক্রমেই সহিংস পীড়ন চালাচ্ছে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এটি জরুরি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু এবং কার্টুনিস্ট আহমেদ কিশোরকে নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটের গত মার্চ মাসের বিবৃতিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাগত জানায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল উল্লেখ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের ওপর অব্যাহত আক্রমণের কথাও তুলে ধরেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশে গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায়। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেছে, সাত বছর আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূতরা সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে গণমাধ্যমের প্রতি আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, সরকারের সমালোচনা করে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হতে হয়। আটক বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকির কারণে ‘সেল্ফ সেন্সরশিপ’ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে বেশ কিছু অনলাইন সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া এবং সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে তারা।