kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ বৈশাখ ১৪২৮। ১০ মে ২০২১। ২৭ রমজান ১৪৪২

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ

করোনায় ঝুলে গেছে প্রকল্প আতঙ্কে উপকূলবাসী

নিখিল ভদ্র   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় ঝুলে গেছে প্রকল্প আতঙ্কে উপকূলবাসী

করোনা মহামারির কারণে আটকে গেছে উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে নেওয়া মেগাপ্রকল্পের কাজ। চলতি অর্থবছরে কাজ শুরু কথা থাকলেও আট হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বরং প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। আবার বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করলে বর্ষা মৌসুমে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সব মিলিয়ে উপকূলীয় জনপদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সারা দেশে ১৭ হাজার ৭০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে সাত হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ উপকূলীয় এলাকায়। এই বেড়িবাঁধের সক্ষমতার ওপর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। ষাটের দশকে নির্মিত উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের বেশির ভাগই নাজুক হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে এই নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, ২০০৯ সালে আইলা, ২০০৭ সালে সিডর, ২০১৬ সালের রোয়ানু, ২০১৫ সালে কোমেন, ২০১৩ সালে মহাসেন, ২০১৯ সালে বিজলি, ২০০৮ সালে রেশমি ইত্যাদি উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় সব বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূলের বিভিন্ন জনপদ ভেসে যায়। বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অবশ্য এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ জনপদে। গত মাসে ওই অঞ্চলে বাঁধের অন্তত ৩৭টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় জনগণ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সহায়তায় বাঁধের ভেঙে যাওয়া স্থানগুলো মেরামত করা হলেও এখনো দুই শতাধিক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ সংস্কারে বর্তমানে শতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। তবে খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের চারটি মেগাপ্রকল্প এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকালে প্রকল্পের কয়েকটি খাতে ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। তারা (পাউবো) জবাব দিলেই বিষয়গুলো প্রকল্প প্রস্তাবনায় পুনরায় সংযুক্ত করে একনেক সভার জন্য প্রস্তুত করা হবে।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খুলনার ১৪ নম্বর পোল্ডারে ৯৫৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ৩১ নম্বর পোল্ডারে এক হাজার ২০১ কোটি ১২ লাখ টাকা, সাতক্ষীরার ৫ নম্বর পোল্ডারে তিন হাজার ৬৭৪ কোটি তিন লাখ টাকা এবং ১৫ নম্বর পোল্ডারে ৯৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছু ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যাখ্যা দেওয়ার পর প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করে একনেক সভায় তোলা হবে।’ চলতি বছরেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে, মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রাখার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস। তিনি জানান, বর্ষার আগে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করা অসম্ভব। কিন্তু পানির চাপ ও বাতাসের গতিবেগ বাড়লে সাতক্ষীরার ৫ ও ১৫ নম্বর পোল্ডার দুটির বিভিন্ন অংশ পাশের খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ ও আড়পাঙ্গাশিয়া নদ-নদীতে ধসে পড়বে। ৫ নম্বর পোল্ডারের ঝাঁপালি ও ঘোলা এলাকার ৯৫০ মিটার অংশ যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিম দুর্গাবাটি, কৈখালী, কালিঞ্চির, সিংহতলী, কদমতলা, দাঁতনেখালী ও বিড়ালাক্ষীর বাঁধও বিলীনের অপেক্ষায়। অন্যদিকে ১৫ নম্বর পোল্ডারের চকবারা, কালীবাড়ি, গাবুরা, পার্শ্বেমারি ও জেলেখালী অংশের বাঁধ মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলার উপকূলীয় বাঁধের সংস্কারকাজ চলমান। উপকূলের অন্যান্য এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণে বিশ্বব্যাংক, জাইকাসহ দাতাসংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থায়নের বিষয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা