kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছয় বছর ধরে শিকলবন্দি যুবক!

চিকিৎসা পেলেই সেরে ওঠার সম্ভাবনা

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চিকিৎসা পেলেই সেরে ওঠার সম্ভাবনা

‘ছেলে আমার ভালো ছিল। তার পিতার মৃত্যুর পর মাথায় সমস্যা হয়। বুকে পাথর চেপে নিজে ছেলের পায়ে শিকল বেঁধেছি ছয় বছর হলো। টাকা-পয়সা নেই, ছেলেরে ডাক্তারি চিকিৎসা কিভাবে করাব? মানুষের বাড়ি কাজ করলে, না হয় ভিক্ষা করলে নাতি ও ছেলেকে নিয়ে খেতে পারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমার ছেলের হাসপাতালে ভর্তি করে ডাক্তারি চিকিৎসা করিয়ে দিত, আমি মা হিসেবে তাঁর জন্য আজীবন দোয়া করতাম।’ যুবক ছেলেকে নিয়ে বিপদে পড়া এক বৃদ্ধ মা কালের কণ্ঠকে এভাবেই বলছিলেন তাঁর অসহায়ত্বের কথা। চিকিৎসকরাও বলছেন, ওই যুবককে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করালে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুবকটির নাম আবুল হোসেন (৩৬)। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামের আব্দুস সালাম (মৃত) ও হাজেরা খাতুনের ছেলে।

আবুল হোসেনদের বাড়িভিটার জায়গাটুকু ছাড়া আর জমি নেই। চার সদস্যের হতদরিদ্র পরিবার। তাঁদের গ্রামের পাশে দেশের অন্যতম বড় বদ্ধ জলাশয় বড়বিলা বিল। আবুল হোসেন ও তাঁর বাবা একসঙ্গে এই বিল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রায় ৯ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। এর কয়েক মাস পরে মানসিক সমস্যা দেখা দেয় হোসেনের। এতে বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের রোজগার। এরপর থেকে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত বৃদ্ধ মা আশপাশের বাড়িতে কাজ করে ও মাঝেমধ্যে ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন। ছেলেকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কবিরাজের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। আবার টাকার অভাবে ছেলেকে মানসিক চিকিৎসক দেখাতে পারেন না। এর মধ্যে হোসেনের স্ত্রী ছয় বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম ও তিন বছর বয়সী রায়হান নামের দুই শিশুসন্তানকে রেখে তাঁর বাবার বাড়ি পাশের সিদ্দিখালি গ্রামে চলে যান। এরপর হোসেনের মানসিক সমস্যা আরো বেড়ে যায়।



সাতদিনের সেরা