kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

১৭ কারারক্ষী চাকরিচ্যুত গ্রেপ্তার তিন বছরে

ওমর ফারুক   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক সেবন, বিক্রি ও সরবরাহের মতো ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায়ে গত তিন বছরে অন্তত ১৭ জন কারারক্ষীকে গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি কারাগারে রক্ষীদের ভেতরে প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কাশিমপুর-১ কারাগারে মাদক ইয়াবা নিয়ে প্রবেশের সময় এক কারারক্ষীকে আটক করা হয়েছে। তার পরও কারাগারগুলোতে মাদক-সংশ্লিষ্ট এই অপরাধ কমছে না।

জানা গেছে, অনেক কারারক্ষী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বন্দিদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করছেন। এসব কারারক্ষীর অনেকেই আবার মাদকাসক্ত। বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরিরত সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হলেও এখন পর্যন্ত কারাগারে সেই ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। কারাগারগুলো কেবল নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করছে। নিয়মিত ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা থাকলে কারাগারে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে মাদকসেবীদের চিহ্নিত করা সহজ হতো। এতে কারাগারে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধও অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

কারা সূত্রে জানা গেছে, মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও সেবনের মতো অপরাধে জড়িত কারা কর্মচারীদের মধ্যে প্রায়ই কেউ না কেউ আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে তাঁদের অনেকেই আইনি লড়াই করে চাকরি ফিরে পেয়ে আবার একই অপরাধে জড়াচ্ছেন। এক কারা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, অপরাধ করেও ফিরে আসার সুযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁরা তখন ভয় না পেয়ে নতুন করে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হন।

কারাগারে মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজনস তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মাদকের ব্যাপারে খুবই কঠোর। মাদক-সংশ্লিষ্টতা পেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়। কারারক্ষীদের মধ্যে সন্দেহভাজনদের ওপর পৃথকভাবে নজর রাখা হচ্ছে।’

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার পিন্টু মিয়া নামের এক কারারক্ষীকে গাজীপুরের কাশিমপুর-১ বিশেষায়িত কারাগার থেকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ৩১ মার্চ কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক করা হয় রোমান ভূইয়া নামের এক কারারক্ষীকে। শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ইয়াবা সেবনের দায়ে ২০১৯ সালে সালাউদ্দিন, ফারুক ও পলাশ নামের তিন কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ছাড়া গত তিন বছরে শুধু কাশিমপুর কারাগার থেকেই ১০ কারারক্ষীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দুই কারারক্ষীকে দুটি জেলা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার গাড়াইল গ্রামের পিন্টু মিয়া কাশিমপুর ১ নম্বর কারাগারের রক্ষী। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর গতিবিধি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছিল। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে আরপি গেটে ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়েন তিনি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে কারা এলাকার বাইরে থেকে আসার সময় কারা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তল্লাশির সময় ৩২৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় পিন্টুর কাছ থেকে। পরে তাঁকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পিন্টুকে থানার পুলিশে হস্তান্তরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোনাবাড়ী থানার ওসি আবু সিদ্দিক।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর জেলার রীতেশ চাকমা জানান, এর আগে কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে পিন্টু মিয়া গাঁজা সরবরাহের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। চাকরি ফিরে পেয়ে তিনি আবারও জড়িয়ে পড়েন মাদকের সঙ্গে।



সাতদিনের সেরা