kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জনশূন্য রেলস্টেশনে অনাহারে পথশিশুরা

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জনশূন্য রেলস্টেশনে অনাহারে পথশিশুরা

লকডাউনে ট্রেন বন্ধ থাকায় আর ১০টা রেলস্টেশনের মতো ময়মনসিংহ রেলস্টেশনও অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। যাত্রীর আনাগোনা নেই। ট্রেন ধরার ব্যস্ততা নেই। স্টেশনের এই সুনসান অবস্থায় ভালো নেই সেখানকার ‘বাসিন্দারা’ও। যাত্রীদের মালপত্র টেনে, তাদের কাছে এটা-সেটা বিক্রি করে, স্টেশন চত্বরে হোটেলগুলোতে ফুটফরমাশ খেটে খাবার জুটত স্টেশনে ঠাঁই গাড়া পথশিশুদের। এখন অনেকটা অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

জানা গেছে, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় দুপুরের খাবার পাচ্ছে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের পথশিশুরা। বাকি দুই বেলা খাবার জোটাতে পারছে না তারা।

গত বৃহস্পতিবার রেলস্টেশনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কয়েকটি পথশিশুর। তাদের একজন সৌরভ (১৫) জানায়, তার বাবা নিরুদ্দেশ; মা মানসিক রোগী। ছোটবেলা থেকেই এই রেলস্টেশনেই আছে সে। এখানেই খায়, এখানেই ঘুমায়। সৌরভ জানায়, লকডাউনের আগে সে যাত্রীদের কাছে পানি বিক্রি করত। প্রতিদিন শখানেক টাকা রোজগার হতো। তাই দিয়ে খাবার কিনে খেত সে। এখন পানি বিক্রি বন্ধ, রোজগারও বন্ধ। তবে দুপুরে কারিতাসের দেওয়া খাবার খায় সে। সকাল ও রাতে না খেয়েই থাকতে হয়।

হৃদয় (১৪) পাপড় বিক্রি করত বলে জানায়। এখন বিক্রি নেই। রনি (১১) ভাঙ্গারির দোকানে কাজ করত। সে-ও কাজহারা। মনিরের (১৪) বাদাম বেচাকেনাও বন্ধ। এর বাইরে কেউ যাত্রীদের মালপত্র টেনে কিছুু টাকাপয়সা পেত। স্টেশন চত্বরের বেশির ভাগ হোটেল বন্ধ হয়ে আছে। ফলে সেখানে এটা-সেটা কাজ করে খাবার পাওয়ারও উপায় নেই।

পথশিশুরা জানায়, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সকালবেলা চেষ্টা করে শহরের ভেতর কোনো কাজ করে সকালের খাবারটা জোগাড় করত। তবে সেই সুযোগ এখন কমই মেলে। ফলে অনেকটা উপোসে দিন যাচ্ছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের ‘ড্রিম’ প্রকল্পের অধীনে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের পথশিশুরা প্রায় তিন বছর ধরে দুপুরের খাবার পাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা বিপাশা মানকিন বলেন, সমাজের বিত্তবানরা বা কোনো সংগঠন যদি এগিয়ে আসে তাহলে পথশিশুদের কষ্ট লাঘব হবে।



সাতদিনের সেরা