kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

নতুন এমপিওভুক্তিতে বরাদ্দ চায় মন্ত্রণালয়

২০২১-২২ অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন এমপিওভুক্তিতে বরাদ্দ চায় মন্ত্রণালয়

১০ বছর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চলতি অর্থবছর এ খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদানের দাবি উঠলেও সহসা তা পূরণ হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

শিক্ষা খাতে করোনাভাইরাসের প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ দরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে আগামী দিনে ঝরে পড়া, শিশু শ্রম বেড়ে যাওয়া, বাল্যবিয়ে, অপুষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নন-এমপিও শিক্ষকরা বিপদে পড়েছেন। এসব থেকে উত্তরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নিতে হবে। সবার আগে দরকার বাজেটে শিক্ষার জন্য বড় বিনিয়োগ করা। আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তাঁরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী বাজেটে আমরা নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়েছি। আমরা চাই অধিকসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষককে এমপিওভুক্তির আওতায় আনতে। এরই মধ্যে এমপিও নীতিমালা-২০২১ জারি করা হয়েছে। সে আলোকে নতুন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করতে সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। এতে দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে আমরা এর পরই এমপিওভুক্তির আবেদন চাইব।’ 

চলতি অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি মিলিয়ে মোট বাজেটের ১৫.১ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও একক খাত হিসেবে শিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ১১.৬৯ শতাংশ। ইউনেসকো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলে আসছে। তবে তিন বছর ধরে শিক্ষায় বরাদ্দ ১২ শতাংশের আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ মূল বেতন দেয় সরকার। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা এবং মেডিক্যাল ভাতা বাবদ ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। আর শিক্ষকদের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দেয় সরকার। অন্যদিকে সরকারি শিক্ষকরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতাসহ নানা সুবিধা পান। এ পরিস্থিতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আগামী বাজেটেই শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি তুলেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন এমপিও নীতিমালায় সর্বশেষ বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের কথা বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষকদের এখন থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। শতভাগ উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসতে হবে। আর এর অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের এই মুহূর্তে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবনা আছে কি না তা আমাদের জানা নেই।’

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মুজিববর্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণার দাবি আমরা আগে থেকেই জানিয়েছি। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রয়োজনীতা আরো সামনে চলে এসেছে।’

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাস পাই। ঈদ এলে শিক্ষকদের মনে কোনো আনন্দ থাকে না। করোনার এই দুঃসময়ে বেসরকারি শিক্ষকরা তাঁদের বেতনের প্রতিষ্ঠানের অংশ পাচ্ছেন না। এতে তাদের অর্থনৈতিক সংকট চরম পর্যায়ে। আসন্ন ঈদুল ফিতর থেকেই আমরা শতভাগ বোনাস চাই। মুজিববর্ষেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা আসবে—সেই দাবি থেকে আগামী অর্থবছরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।’