kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অবসর ভাতা না পেয়ে ভিক্ষা

যশোর প্রতিনিধি   

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অবসর ভাতা না পেয়ে ভিক্ষা

আমির আলী

আমির আলী বিশ্বাস। স্বাধীনতার পর থেকে যশোর পৌরসভার পানি শাখায় চাকরি করেছেন। এমএলএসএস পদে তাঁর চাকরি নিয়মিত হয় ১৯৮৮ সালে। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি অবসর নিয়েছেন। এরপর তিন বছরেও তাঁর পাপ্য পিএফ ও গ্রাচুইটির পাওনা টাকা পাননি। এ কারণে অসুস্থ আমির আলীর এখন চিকিৎসা বন্ধ। জীবন সায়াহ্নে আসা সাবেক এই পৌরকর্মীর দিন কাটছে চরম মানবেতরভাবে।

যশোর সদর উপজেলার পাগলাদহ গ্রামে আমির আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট জীর্ণ টিনশেড ঘরের বারান্দায় খালি গায়ে গামছা পরে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছেন। কানে একদমই শোনেন না। কথা হয় তাঁর স্ত্রী বৃদ্ধা আমেনা বেগমের সঙ্গে। আমেনা বেগম জানান, তাঁর স্বামী আট লাখ টাকারও বেশি পাবেন পৌরসভার কাছে।

আমেনা বেগম বললেন, ‘টাকার অভাবে মানুষটা না জানিয়ে অনেক সময় ভিক্ষাও করেন।’

আমির আলীর মতো আরেকজন শওকত আলী। যশোর পৌরসভায় চাকরি করেছেন ১৯৮৯ সাল থেকে। অবসরে গেছেন ২০১৮ সালে। তিনিও পিএফ ও গ্রাচুইটির প্রায় ২১ লাখ টাকা পাবেন পৌরসভার কাছে। গত দুই বছর তিনি প্রায়ই আসেন পাওনা টাকার জন্য। তিনি বললেন, ‘পানি শাখায় চাকরি করিছি। এজন্যি ঝড়-তুফান, ঈদ-পর্ব কোনোদিন ছুটি ছিল না। এত কষ্ট কইরে সারা জীবন চাকরি করিছি। কিন্তুক চাকরি শেষে আইজ পাওনা টাকার জন্যি বছরের পর বছর এইভাবে ঘুরতি হচ্ছে।’

আমির ও শওকত আলীর মতো পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগে অবসরে যাওয়া ১০৪ জন কর্মচারী টাকা পাবেন পৌরসভার কাছে। তাঁদের অনেকে বছরের পর বছর ঘুরে মারাও গেছেন। কিন্তু মৃতদের উত্তরাধিকারীরাও সেই টাকা পাননি।

পৌরসভাসংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু অবসরপ্রাপ্তরাই নন, নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিপুল অঙ্কের টাকা পাবেন পৌরসভার কাছে। অবসরপ্রাপ্তদেরই পিএফ ও গ্রাচুইটি পাওনা রয়েছে আট কোটি ৫৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিএফ গ্রাচুইটির পাওনা রয়েছে ২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

যশোর পৌরসভা কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম জানালেন, তিনি নিজেও প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাবেন।

যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান পলাশ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। পাওনা মেটানোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’



সাতদিনের সেরা