kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চুরির অপবাদে ভিক্ষুককে বেঁধে নির্যাতন

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আব্দুল বারেকের (৫৫) বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বনহাটি গ্রামে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও তিনি হাওরাঞ্চলে ধান কাটার সময়ে ধান সাহায্য চাইতে আসেন। এবার তাঁকে ধান চুরির অপবাদ দিয়ে বেঁধে রেখে প্রকাশ্যে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর তাঁকে পুলিশে হস্তান্তর করে নির্যাতনকারীরা। তাঁর নামে মামলাও করে। পরে তাঁকে পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের বারগরি পূর্বহাটি গ্রামে। এদিন রাতে মদন থানার পুলিশের হাতে আটক অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া (৩৮) পূর্বহাটি গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর ছেলে ও সাবেক যুবদল নেতা।

স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল বারেক কয়েক বছর ধরে বৈশাখ মাসে হাওরাঞ্চলে এসে ধান ভিক্ষা করেন। এবার তিনি গোবিন্দশ্রী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ঝুমন মিয়ার পরিত্যক্ত ঘরে বসবাস করে ভিক্ষা করছিলেন। গত বুধবার সকালে মুক্তার আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম (৪৫) ধান চুরির অভিযোগে আব্দুল বারেককে তাঁর (খাইরুল) বাড়ির সামনে বেঁধে রাখেন। তবে বারেক অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে খাইরুলের ছোট ভাই মাসুদ মিয়াসহ কয়েকজন কয়েক ঘণ্টা ধরে লোকজনের সামনে আব্দুল বারেকের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এরপর তারা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই বস্তা ধানসহ আব্দুল বারেককে আটক করে মদন থানায় নিয়ে যায়। এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে মাসুদকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।

আব্দুল বারেকের ছেলে আজিজুল মিয়া (২৪) গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমি ঢাকা গার্মেন্সে কাম করি। আমার আব্বা চার-পাঁচ দিন আগে মদনের গোবিন্দশ্রীর একটি বাড়িতে থাইক্কা ধান সাহায্য তুলে। অহন আমার আব্বারে তারা চুরির অপবাদ দিয়া বাইন্দা নির্যাতন করছে। আবার আমার আব্বার নামে উল্টা মামলা করছে। আমরা মামলা করবাম কিবাং, টেহাপয়সা নাই। পুলিশ মামলা নিত চাইতাছে না।’



সাতদিনের সেরা