kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে গুজব

হেফাজতের শতাধিক আইডি শনাক্ত

ঢাল হিসেবে তারা ব্যবহার করেছে বিভিন্ন মাদরাসা বা এতিমখানার শিশুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) পুরনো সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে গুজব ছড়ানো হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের শতাধিক পেজ বা আইডি শনাক্ত করেছে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা জানান।

ব্রিফিংয়ে মঈন জানান, হেফাজতে ইসলাম ফেসবুকে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংগঠনটির গ্রেপ্তার কিছু সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, পুরনো এসব ভিডিও লাইভের অপকর্ম করছে হেফাজতের আইটি টিম। বিশেষ করে হেফাজতের নেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফেসবুক লাইভে আগের সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে তারা। তবে যারা এ ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করেছে, র‌্যাব তাদের শনাক্ত করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী যে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছিল, একটি কুচক্রীমহল তখন থেকেই দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা সৃষ্টি করতে নাশকতা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা এসব অপরাধী ব্যক্তি বা দলকে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র দেখে এবং তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘শিশু বক্তা’ রফিকুল ইসলামসহ হেফাজতের ১২ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সংগঠনটির গ্রেপ্তার হওয়া বেশির ভাগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নাশকতা সৃষ্টির জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য (অনলাইনেও) দিয়েছেন। তাঁদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা পুরনো ভিডিও ‘লাইভ’ বলে শেয়ার দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। নিজেদের শক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয় জানান দেওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। তাঁরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে ঢাল হিসেবে বিভিন্ন মাদরাসা বা এতিমখানার কোমলমতি শিশুদেরও ব্যবহার করেছেন।

কতগুলো পেজ কিংবা ওয়েবসাইট দিয়ে তাঁরা এসব ‘লাইভ’ করতেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘র‌্যাব এখন পর্যন্ত শতাধিক পেজের সন্ধান পেয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে লাইভ করত। আমরা একজন ব্যক্তির নামে একাধিক আইডি পেয়েছি। ওই আইডিগুলো দিয়ে এসব লাইভ শেয়ার দেওয়া হতো।’



সাতদিনের সেরা