kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

কারাগারে ব্যাপক প্রস্তুতি

ওমর ফারুক   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভাবিয়ে তুলেছে কারা কর্তৃপক্ষকেও। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারের ছয় কর্মকর্তাসহ ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের এক বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিভিন্ন কারাগারের আরো ছয়জন বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর অনেক কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও বন্দিদের মধ্যে তেমন ছড়ায়নি। কিন্তু এবার বন্দিদের মধ্যে ছড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে আগেভাগেই কারা কর্তৃপক্ষ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাশিমপুর কারাগারের হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডকে আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আরো আটটি কারাগারে আইসোলেশন সেন্টার ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়। যেসব বন্দিকে হাসপাতালে রাখার মতো অবস্থা থাকবে না তাদের আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘করোনার বর্তমান যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি তাতে আমরা মনে করি, এখন পর্যন্ত আমরা কম আছি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি কারাগারে যাতে করোনা না ছড়ায়।’

কারা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ছয় পাতার একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে কারা অধিদপ্তর। সেটি দেশের সব কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় রয়েছে, নতুন কোনো বন্দি কারাগারে আসার পর করোনা রোধে কী কী করতে হবে; পুরনো বন্দিরা করোনায় আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট কারা কর্মকর্তারা কী করবেন, কোথায় যোগাযোগ করবেন; কারাগারের ভেতরে যে ওয়ার্ডে করোনা ধরা পড়বে সেই ওয়ার্ডকে কী করতে হবে ইত্যাদি।

দেশের বিভিন্ন কারাগারে গত বছর আটটি আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছিল। করোনার প্রকোপ কমে আসার পর সেগুলোকে আর কার্যকর রাখা হয়নি। এ বছর করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে যাওয়ার কারণে ওই আটটি সেন্টারকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে মন্ত্রণালয়ে। এরই মধ্যে ঢাকা ও ফেনীর সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথাও হয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের। বর্তমানে দেশের ৬৮টি কারাগারে ৮২ হাজার বন্দি রয়েছে। এতসংখ্যক বন্দিকে করোনামুক্ত রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষকে। গত কিছুদিনে বেশ কিছু বন্দি জামিনে মুক্ত হওয়ার কারণে বন্দির সংখ্যা আগের চেয়ে কিছু কমেছে বলে জানা গেছে। এর পরও বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে কারাগারগুলোতে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা জি কে শামীম করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছেন কারাগারের কর্মকর্তারা। যে ওয়ার্ডে তাঁকে রাখা হয়েছিল সেটিকে লকডাউন করা হয়েছে। তাঁর করোনা ধরা পড়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আরো এক বন্দির করোনা ধরা পড়েছে। তাঁকেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দিদের করোনামুক্ত রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যাঁরা বন্দিদের দায়িত্ব পালন করেন তাঁরাও যাতে করোনায় আক্রান্ত না হন সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা