kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

গবেষণা তথ্য

করোনা পরিস্থিতিতে সংকটে মাছ চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্যের পরও চলমান করোনা পরিস্থিতিতে মাছের খাবারের বাড়তি দাম বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেছে। এর ফলে চাষিরা কম দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এর প্রভাবে মাছ চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। তার পরও মৎস্য খাত বাংলাদেশে ‘বড় সম্ভাবনা ও সুযোগ’ হিসেবে বিবেচিত।  

গতকাল বুধবার বিকেলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাকুয়াকালচার সেক্টর স্টাডি বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা সমীক্ষা প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজনেস কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লারিভ ইন্টারন্যাশনাল ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এই গবেষণা সমীক্ষা করা হয়। মাছ চাষি, বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি ৫০ জনের বেশি ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ও মতামতের ভিত্তিতে সমীক্ষাটি করা হয়।  

অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ, নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন লারিভ ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর ম্যাথিয়াস বিনেন, লাইটক্যাসল পার্টনার্সের পরিচালক জাহেদ আমিন, একই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র বিজনেস কনসালট্যান্ট সাইফ নজরুল প্রমুখ। আরো সংযুক্ত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ এই খাতসংশ্লিষ্ট নেতারা।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ শতাংশ কৃষক জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় দূরের স্থানগুলোতে খামারিদের মধ্যে মাছের খাবার, মৎস্যজাত দ্রব্য ও পোনা সরবরাহে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে মৎস্য উৎপাদন। আবার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাজারে কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে মাছ। তার ওপর মাছের খাবারের দাম মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে।  

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২১ সালের চলতি এপ্রিল নাগাদ এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তবে গত বছরের মাঝামাঝি করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে সংকট আরো ঘনীভূত হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে বেশির ভাগ প্রজাতির মাছের দাম আগের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ শতাংশ কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে ৩৭ শতাংশ কৃষক মনে করেন, ওই সময়টায় তাঁদের ৫০-১০০ শতাংশ মূল আয় কমতে থাকে।  ৫১ শতাংশ কৃষক মনে করেন, ওই সময়টায় তাঁদের আয়-ব্যয় সমান্তরালে ১-৫০ শতাংশ হয়, মাত্র ১০ শতাংশ তেমন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হননি।



সাতদিনের সেরা