kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

কম দামি সিগারেটের দাম বাড়লে ভোক্তা ঝোঁকে অবৈধতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা মহামারির মধ্যেও চলতি অর্থবছরে যেসব খাত রাজস্ব আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তার মধ্যে একটি হলো সিগারেট। ওই খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ সহনীয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি। গত বছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিগারেটের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল, যা রাজস্ব আয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। আগামী অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি নেতিবাচক ফল দিতে পারে।

নিম্নস্তরের সিগারেটের ভোক্তা সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ। মহামারির কারণে এমনিতেই ওই শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এমন অবস্থায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ভোক্তারা কম দামি অবৈধ সিগারেটের দিকে ঝুঁকবে। এতে বড় ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সরকার। এ ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবে কর ফাঁকি দেওয়া সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া সিগারেটের প্রসার বাড়ে। ওই অর্থবছরে এনবিআরের প্রায় ২৫০০-৩০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। এ রকম রাজস্ব ফাঁকি এড়াতে আগামী অর্থবছরে সহনীয় পর্যায়ে নিম্নস্তরের মূল্যবৃদ্ধি করা উচিত।

অবৈধ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে এনবিআর যথেষ্টই তৎপর। গত দুই-তিন বছরে এনবিআরসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে অসংখ্য অভিযান চালানো হয়। এনবিআরের  পক্ষ থেকে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে অনেক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এটা চালিয়ে যাওয়া দরকার।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘গত বছরের সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ নীতি ছিল যথার্থ এবং ওই খাত থেকে রাজস্ব আয় অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য ইস্যু এবং টেকসই রাজস্ব আয় এ দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এনবিআরকে। গত বছরের নীতিতে এ বিষয়টি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।’