kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

বাংলাদেশের মহীসোপান দাবিতে ভারতের আপত্তি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বাংলাদেশের দাবির ওপর আপত্তি জানিয়েছে ভারত। গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিশনে ভারত ওই আপত্তি জানায়। ভারত বাংলাদেশের দাবি বিবেচনায় না নেওয়ার জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে মিয়ানমার গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের দাবির প্রতি তাদের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। উল্লেখ্য, রীতি অনুযায়ী এক পক্ষ দাবি জানানোর পর সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলো ওই দাবির বিষয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ যুক্তিসহ তুলে ধরে। দুই প্রতিবেশীর বিরোধিতার কারণে মহীসোপানের জটিলতা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ২০১১ সালে মহীসোপানের (সমুদ্রে নিমজ্জিত ১০০ মিটার পর্যন্ত মহাদেশীয় প্রান্তভাগ) দাবি জানিয়ে জাতিসংঘে আবেদন করে। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সংশোধিত আবেদন জমা দেয়। গত শুক্রবার জাতিসংঘের সিএলসিএস ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভারতের আপত্তিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যে ‘বেসলাইনের’ ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, সেটির মাধ্যমে ভারতের মহীসোপানের একটি অংশ দাবি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে যে ‘গ্রে এরিয়া’ রয়েছে সেটির বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো তথ্য দেয়নি। ২০১৪ সালে জাতিসংঘের স্থায়ী সালিসি আদালত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলার রায়ে সাগরের প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে গ্রে এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। ওই গ্রে এরিয়ায় সাগরের মাটির নিচে খনিজ সম্পদ বাংলাদেশের। অন্যদিকে ওই স্থানের সাগরের মাটি থেকে পানির উপরিভাগ পর্যন্ত সম্পদের মালিক ভারত। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা মনে করেন, গ্রে এরিয়ার সঙ্গে মহীসোপানের কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া ভারত যে বেসলাইনের ওপর ভিত্তি করে তাদের মহীসোপান দাবি করছে, সেটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে আপত্তি জানিয়েছিল। এটি এখনো বহাল আছে। মিয়ানমার ও ভারতের আপত্তি বা পর্যবেক্ষণের ব্যাপারে বাংলাদেশও পাল্টা যুক্তি তুলে ধরবে।