kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মঙ্গলবার্তার প্রত্যাশা

নববর্ষ বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মঙ্গলবার্তার প্রত্যাশা

নববর্ষের নতুন আলোয় দূর হবে মহামারি, পরাভূত হবে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি—এমন মঙ্গলবার্তার প্রত্যাশায় জাতি বরণ করে নিয়েছে বঙ্গাব্দের নতুন বছর ১৪২৮-কে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই বরণ করা হলো নববর্ষ।

মহামারির দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার জন্য দেশব্যাপী ‘কঠোর বিধি-নিষেধ’ বা ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে নতুন বছরের প্রথম দিন ভোর থেকেই। ফলে ঘরবন্দি সময় পার করা ছড়া কোনো উপায় ছিল না মানুষের। একই দিন শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান।

কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হলেও ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠান হয়েছে অনলাইন ও টেলিভিশন মাধ্যমে। আর মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে প্রতীকীভাবে।

গত বুধবার পহেলা বৈশাখে সকাল ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয় ছায়ানটের বর্ষবরণের এই আয়োজন। একই সঙ্গে সম্প্রচার করা হয় ফেসবুক ও ইউটিউবে। অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে রমনার বটমূলের পুরনো আয়োজন ও নতুন রেকর্ড করা পরিবেশনার সমন্বয়ে। মহামারি ক্লান্ত মানুষের সামনে লড়াইয়ের উজ্জীবনী গান পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা—‘আমি ভয় করব না, ভয় করব না। দু’বেলা মরার আগে মরব না ভাই, মরব না।’

কথন পর্বে অংশ নেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান দুঃসময় ও তা থেকে উত্তরণের আশাবাদ। তাঁর ভাষায়, ‘লাখো প্রাণের আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সংস্কৃতির যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন হয়েছে। অর্ধশতবর্ষ পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি আমাদের আশাবাদী করে তোলে। কিন্তু ধর্মের মর্মবাণীকে উপেক্ষা করে নতুন অবয়বে উত্থিত ধর্মবিদ্বেষ সম্প্রীতির সমাজকে বিনষ্ট করতে সচেষ্ট। লোভের বিস্তার বৈষম্য সৃষ্টি করছে। খণ্ডবিচ্ছিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়ের। আমরা আশা করছি অন্ধকারের উৎস থেকে আলো উৎসারিত হবে। নতুন বছর বয়ে আনবে সর্বজনের জন্য মঙ্গলবার্তা। আলো আসবেই।’

চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ ও লোকজ সংস্কৃতির পরিচয়বাহী বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে অনুষদ প্রাঙ্গণে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ‘কাল ভয়ংকরের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর’—এই প্রতিপাদ্যে এবারের আয়োজনে হতাশা কাটিয়ে জীবনের জয়গান এবং অপশক্তিকে প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রতীকী এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।



সাতদিনের সেরা