kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

যানজটে অচল সিলেট

সিলেট অফিস   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একই দিনে রমজান মাস ও এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হচ্ছে। আগের দিন তাই মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর তীব্র যানজটে সিলেট নগর যেন থেমে গিয়েছিল। কেউ নিত্যপণ্য কিনতে হাট-বাজারে ভিড় করেছে, লকডাউন যদি দীর্ঘমেয়াদি হয় সেই ভাবনা থেকে ঈদ উপলক্ষে শপিং মলগুলোতে ভিড় জমিয়েছে, আবার অনেকে শহর ছেড়েছে। এই সুযোগে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, যানবাহন বিশেষ করে মাইক্রোবাসগুলো ভাড়া দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন এমন চিত্র ছিল সিলেটের।

নগরের কাজীরবাজার, আম্বরখানা, লালবাজার, কালীঘাটসহ বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে সকাল থেকেই ছিল ভিড়। রমজান ও লকডাউনকে মাথায় রেখে অনেকে পণ্য কিনতে ভিড় জমায় এসব স্থানে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে সামাজিক দূরত্বের বালাই ছিল না। নগরের খাসদবীর বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা শাকিল মজুমদার আম্বরখানা বাজারে এসেছেন পণ্য কিনতে। তিনি বলেন, ‘রমজান শুরু হচ্ছে, তার ওপর শুনেছি এবার কঠোর লকডাউন হবে। তাই পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে ফেলেছি। পরে কী হয় না হয় কে জানে।’ বাজারে আসা অনেকেই একই কথা বলেছে। কেউ এক মাসের, কেউ পনের দিনের বাজার করেছে। যার সামর্থ্য কম সে অন্তত এক সপ্তাহের বাজার করেছে। লকডাউনে কাঁচাবাজার খোলা থাকলেও বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা থাকায় অনেকে ঝুঁকি নিতে চায়নি।

ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট আড়ত এলাকার চিত্রও ছিল একই রকম। দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রির জন্য আসা পণ্যবাহী ট্রাকের সারি। পণ্য নামানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। অনেকে অভিযোগ করেন, কোনো কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কালীঘাটের ব্যবসায়ী নিলাঞ্জন দাশ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাঁচ-ছয় দিন থেকেই মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বাজার করছে। লকডাউন ও রমজান একসঙ্গে পড়ায় মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার তথ্য সঠিক নয়।’

রমজানকে সামনে রেখে গতকাল ভিড় ছিল মাংসের দোকানগুলোতে। চাহিদা বাড়ায় মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত ছিল। আম্বরখানা, লালবাজারসহ কয়েকটি বাজারে খবর নিয়ে দেখা গেছে, ব্রয়লার মোরগের দাম কেজিপ্রতি কমপক্ষে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সাদা মোরগ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১৪০ টাকা। লাল মোরগ প্রতিটি গত সপ্তাহে ৩৮০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল দাম বাড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

নিত্যপণ্যের ও কাঁচাবাজারের পাশাপাশি শপিং মলগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল। লকডাউন সাত দিনের হলেও তা পরে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে ভেবে অনেকে ঈদের কেনাকাটা করে ফেলেছে। নগরের জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘গতবার প্রথমে এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়ে পরে তা অনেক দীর্ঘ হয়েছে। যে কারণে ঈদের কেনাকাটা করার সুযোগ হয়নি। এবারও কী হবে বোঝা যাচ্ছে না। তাই ঈদের কিছু কেনাকাটা আগাম করে ফেলেছি।’ এ ছাড়া এক সপ্তাহের লকডাউনে অনেকে শহর ছেড়েছে গতকাল। যাদের পরিবার গ্রামের বাড়িতে তারা তো গেছে-ই, অনেককে সপরিবারে গ্রামে ছুটতে দেখা গেছে।



সাতদিনের সেরা