kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩ আষাঢ় ১৪২৮। ১৭ জুন ২০২১। ৫ জিলকদ ১৪৪২

ঝিলিক হত্যাকাণ্ড

স্বামী রিমান্ডে, জেলে শ্বশুর-শাশুড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বামী রিমান্ডে, জেলে শ্বশুর-শাশুড়ি

হাসনা হেনা ঝিলিক ছিলেন নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফেসবুকে পরিচয় হয় ধনী পরিবারের ছেলে সাকিবুল আলমের সঙ্গে। এরপর প্রেম। পরিবারের অমতেই ঝিলিককে বিয়ে করেন সাকিব। ঝিলিকের স্বজনরা প্রথমে রাজি না হলেও পরে মেয়ে সুখে থাকবে ভেবে ছিলেন স্বস্তিতে। তবে সেই স্বস্তি বেশি দিন টেকেনি। বিয়ের কিছুদিন পরই স্বজনরা খবর পায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে ঝিলিককে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ার ভয়ে ঝিলিক স্বজনদের শ্বশুরবাড়িতে যেতে নিষেধ করে দেন। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। সেই নির্যাতনেই প্রাণ গেল ঝিলিকের।

রাজধানীর গুলশানের বাসায় নির্যাতনে মৃত্যুর পর হাতিরঝিলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে সাজানো হয় নাটক। শুধু তা-ই নয়, গ্রেপ্তার এড়াতে ঝিলিকের স্বামী সাকিব দাবি করেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। চাঞ্চল্যকর হত্যার শিকার ঝিলিকের স্বজন ও পুলিশ কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এই ঘটনায় ঝিলিকের মা বাদী হয়ে ঝিলিকের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ সাকিব আলম, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ও শাশুড়ি সৈয়দা আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। 

জানতে চাইলে গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, বিজ্ঞ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের নির্দেশে সাকিবকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শ্বশুর, শাশুড়িকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্য আসামি ননদ টুকটুক আলম ও দেবর ফাহিম আলম পলাতক আছে। নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা বলেন, ‘আমার মেয়েকে ওরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তা না হলে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এত মিথ্যা বলবে কেন? বাড়িতেই ঝিলিক মারা গেছে, এটা সবাই স্বীকার করেছে। সাকিব ও তার পরিবারের লোকজন আগেও ওকে নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের ভয়ে আমাদের ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করেছিল ঝিলিক।’

স্বজনরা জানায়, সাকিবের বাবা জাহাঙ্গীর আলম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কে নিজেদের ডিলাক্স ফ্ল্যাট ছাড়াও একাধিক বাড়ি আছে তাদের। আর ঝিলিক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা আনোয়ার হোসেন এক বছর আগে মারা গেছেন। মোহাম্মদপুরে ভাড়া বাসায় দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকেন ঝিলিকের মা।



সাতদিনের সেরা