kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা উঠছে কাল

মহামারি নিয়ে উদ্বেগ,আছে প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পিছিয়ে যাওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা উঠছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সেখানে করোনাভাইরাস এবং ঝড়-বৃষ্টি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রন্থমেলায় আসতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় বাংলা একাডেমি।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, পরিচালক ও মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ, মেলার নকশা প্রণেতা স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর, বিকাশের মহাব্যবস্থাপক তাহমিদুর রহমান, ক্রস ওয়াক কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপক এম এ মারুফ, একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিকেল ৩টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংস্কৃতিসচিব মো. বদরুল আরেফীন শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং হাবীবুল্লাহ সিরাজী স্বাগত বক্তব্য দেবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর ইংরেজি অনুবাদের মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ২০২০ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে নতুন করে ভাবতে হবে। যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, মেলা চলানোর মতো সুযোগ না থাকে, সে ক্ষেত্রে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টির দাপট, পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারি—এর ভেতর দিয়ে আমাদের সন্তানরা, বয়োবৃদ্ধ বাবারা এবং আমরা তরুণরা যারা গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণ করব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্যের সঙ্গে গ্রন্থমলোয় আসব। এটাই আমাদের কাম্য।’

ড. জালাল আহমেদ জানান, এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে মহামারির কারণে প্রথম দিকে শুক্র-শনিবারের ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে না। কভিড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মেলার প্রবেশপথে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। মাস্ক ছাড়া কাউকে মেলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় আমাদের বিভিন্ন টিমও কাজ করবে। এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব প্রান্তে নতুন প্রবেশপথ করা হয়েছে। সব মিলে তিনটি প্রবেশপথ ও তিনটি বাহিরপথ থাকবে। গ্রন্থমেলায় প্রবেশে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মেলার এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।’

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায় এবারের গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হবে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।

১৯ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনার পাশাপাশি বরেণ্য বাঙালি মনীষীর জন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং গত এক বছরে প্রয়াত বিশিষ্টজনদের জীবন ও কৃতি নিয়ে সেমিনার হবে। এ ছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিদিনই রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি।



সাতদিনের সেরা