kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

মৌমিতার মৃত্যুরহস্য ১২ দিনেও উদঘাটন হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌমিতার মৃত্যুরহস্য ১২ দিনেও উদঘাটন হয়নি

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতার মৃত্যুরহস্য ঘটনার ১২ দিনেও উদঘাটন হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের গাফিলতি রয়েছে বলেও মনে করছে তারা। পুলিশ বলছে, পরিবারের দাবির পক্ষে সঠিক তথ্য-প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তেও কোনো গাফিলতি নেই।

সন্দেহভাজন হিসেবে আমীর হামজা আদনান নামে এক তরুণকে আটক করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও কোনো তথ্য মেলেনি। সর্বশেষ তাঁকে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র গত মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত মৌমিতার মৃত্যুরহস্য জানা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার আদনানকে ঘিরে তদন্ত চলছে। মৌমিতাকে কেউ ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে কি না, অসাবধানতায় পড়ে গেছেন কি না অথবা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কি না—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত চলছে।

বেসরকারি এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির কুয়ালালামপুর শাখায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (আইটি) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন মৌমিতা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ১৮ জুলাই তিনি দেশে ফিরে এসে পরিবারের সঙ্গেই থাকছিলেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকার কলাবাগান আট নম্বর রোডে সাততলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারান তিনি।

এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন মৌমিতার বাবা কামাল মোস্তফা খান ওরফে শামীম। তিনি এজাহারে বলেন, ‘আমার দৃঢ় সন্দেহ যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে কোনো একসময় আসামি ও আসামিগণ পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার মেজো মেয়ে তাজরিয়ান মোস্তফা মৌমিতাকে আমার বর্তমান ঠিকানার বাসার ছাদের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফারযাদ আহমেদ ওরফে ফাইজার, আদনান, তানভীর, ত্রিনয়, অপরাজিতাসহ আরো অজ্ঞাতনামাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। এখানে আরো উল্লেখ্য, আমার ছোট মেয়ে অনিকা মোস্তফা (১৫) ঘটনার দিন বিকেল ৫টা ১৬ মিনিট থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মৌমিতার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানতে পারে যে ওই সময় মৌমিতার সঙ্গে আরো কয়েকজন ছাদে ছিল।’

কামাল মোস্তফা খান এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই।’



সাতদিনের সেরা