kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

অস্ত্র ডগ স্কোয়াড ও নৌ ইউনিট পাচ্ছে ডিএনসি

♦ মাদক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা
♦ নজরদারিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

এস এম আজাদ   

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্ত্র ডগ স্কোয়াড ও নৌ ইউনিট পাচ্ছে ডিএনসি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতোই চৌকস হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সফল অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ডিএনসির সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র। গড়ে তোলা হচ্ছে ডগ স্কোয়াড। পাশাপাশি গঠন করা হচ্ছে নৌ ইউনিট।

জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিএনসির সিপাহি, উপপরিদর্শক (এসআই) ও পরিদর্শকদের (ইন্সপেক্টর) অস্ত্র দেওয়া হবে। অস্ত্রের ধরন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো কমিটির মাধ্যমে যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই ডিএনসিকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে আর কোনো বাধা থাকবে না। এক মাসের মধ্যে ওই প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ড্রাগ ডিটেকশন স্ক্যানার না থাকায় মাদক শনাক্তকরণে সমস্যা দূর করতে ডিএনসিতে তৈরি হচ্ছে ডগ স্কোয়াড। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের পর ডগ স্কোয়াড গঠনের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

এদিকে নৌপথে ইয়াবাসহ নানা মাদক পাচার রুখতে নজরদারির জন্য মেরিন বা নৌ ইউনিট গঠন করতে চাইছে ডিএনসি। জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ইউএনওডিসি) থেকে গত মাসে কক্সবাজারের টেকনাফ অফিসকে দুটি স্পিডবোট দেওয়া হয়। এখন উপকূলীয় অন্যান্য এলাকায় জলযান যুক্ত করতে লোকবল কাঠামোতে একটি মেরিন ইউনিটের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা এবং নজরদারিতে চৌকস সংস্থা হিসেবে ডিএনসিকে গড়ে তুলতে কিছু কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার মতোই পোশাকে সশস্ত্র অভিযানে সক্ষম করে তোলা একটি অন্যতম উদ্যোগ। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো মাদক নিয়ন্ত্রণে অস্ত্রের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াডেরও প্রয়োজন রয়েছে। আবার নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় ডিএনসিতে নৌ ইউনিট থাকাটাও জরুরি।

সূত্র জানায়, মাদক নিয়ন্ত্রণ জাতীয় বোর্ড থাকলেও ২০১৮ সালে প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৩(ক) নম্বর ধারায় জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। এটিই দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বড় ফোরাম। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে ওই সভায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ১৭টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। সভায় ডিএনসির কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের নরকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এসবি) এবং মিয়ানমারের সেন্ট্রাল কমিটি ফর ড্রাগ অ্যাবিউজ কন্ট্রোলের (সিসিডিএসি) আভিযানিক দল ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন (ডিএডি) অস্ত্র ব্যবহার করছে। পরে সিপাহি থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে বায়স্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত করতে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব একটি কমিটি গঠন করবেন। কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবে। সভার অনুমোদিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সুরক্ষা বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সূত্র মতে, কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে অস্ত্রের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে। কমিটিতে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ওই সভায় দেশের বন্দরগুলোতে মাদক শনাক্তকরণের জন্য ডিএনসি একটি ডগ স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ডগ স্কোয়াড দেওয়া হবে। চার মাসের মধ্যে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, ‘অধিদপ্তরকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে কিছু কার্যক্রম চলমান। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত নিরস্ত্র কর্মী বাহিনী মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অনেক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক কর্মীকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। তাই এই অস্ত্রের প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছি।’

মন্তব্য