kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

কুমিল্লা কারা হাসপাতাল

‘জামাই আদরে’ সুস্থ বন্দি, ধোঁকেন অসুস্থ কয়েদিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাচ্ছেতাইভাবে চলছে কুমিল্লা কারা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। টাকা খরচ করলেই নাকি এই হাসপাতালে ‘সুস্থ’ কারাবন্দিও বেড দখলে রাখতে পারেন। আর ঘুষ না দিলে অসুস্থ রোগীকেও সুচিকিৎসা না পেয়ে কারাগারের চার দেয়ালে ধুঁকতে হয়। বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া হাজতি ও কয়েদিরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ বহু পুরনো। কুমিল্লা কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা এক হাজার ৭৪২ জন। এর বিপরীতে কারা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৭৫টি। হাসপাতালটিতে নেই জনবল সংকট। রয়েছেন দুই চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন টেকনিশিয়ান। তার পরও সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না কারাবন্দিরা।

কারাবন্দি ও কয়েদিদের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে কথা হয় সদ্য জেল খেটে জামিন পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে। মোকলেছুর রহমান (ছদ্মনাম) প্রতিবেশীর এক মিথ্যা মামলায় ফেঁসে ২৭ দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন। জানালেন কারা হাসপাতালের নানা অনিয়মের কথা। তিনি জানান, কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সপ্তাহখানেক অসুস্থতা নিয়ে দিন পার করলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা তাঁর কপালে জোটেনি। আর অনেকে সুস্থ থাকলেও টাকার বিনিময়ে কারাগারের হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু সত্যিকারের যেসব অসুস্থ কয়েদি-হাজতি রয়েছেন তাঁরা ঘুষ দিতে পারেন না বলে হাসপাতালের সিটের সুযোগ-সুবিধা পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কয়েদির অভিযোগ, কারা হাসপাতালে চিকিৎসক বা জনবল সংকট নেই। তবে কমতি রয়েছে চিকিৎসাসেবার। অসুস্থ হওয়ার পর একজন কয়েদির অবস্থা মারাত্মক না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সেবা মেলে না।

মুরাদনগরের মাদক মামলায় এক কারাবন্দির স্বজন খালেকুজ্জামান (ছদ্মনাম) জানান, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন তাঁর এক স্বজন। শুনেছেন তিনি এখন কারাগারে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু টাকার জন্য পারছেন না।

কুমিল্লা আদালতের একাধিক আইনজীবী জানান, তাঁদের অনেক মক্কেল প্রায় অভিযোগ করেন বন্দি অবস্থায় তাঁদের লোক অসুস্থ হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ চিকিৎসা পান না। কারা হাসপাতালের সেবা পেতে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তাঁরা আরো জানান, আইনজীবী হিসেবে আমাদের পরামর্শ থাকবে কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের মধ্যে অসুস্থ বন্দিকেই কারা হাসপাতালের সেবা দেবেন, কোনো সুস্থ বন্দিকে নয়।

অভিযোগের ব্যাপারে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, ৭৫ শয্যার কারা হাসপাতালে গত মঙ্গলবার ভর্তি ছিলেন ৪৫ জন। বাকি ৩০টি খালি রয়েছে। একজন কারাবন্দি অসুস্থ হতেই পারেন। তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার উপযুক্ত হলে অবশ্যই তাঁকে কারা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।