kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

রসিকের দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র

অভিযুক্তরা বাদ, সাক্ষীই আসামি

যাঁরা টাকা ছাড়ে দরপত্রে সই করেছেন সেই অভিযুক্তরা এখন সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ঠিকাদারি কাজের জন্য গণমাধ্যমে দরপত্র প্রকাশ না করে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের যোগসাজশে ৩০ কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের আড়াল করা হয়েছে। উল্টো ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক ক্যামেরাম্যানকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর কার্যালয়।

দুই বছর আগের ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দুই প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হয়। সে সময় অভিযোগের সাক্ষী ক্যামেরাম্যান মো. গোলজার রহমানকেই একমাত্র আসামি করে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জমা দেন জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নূর আলম।

আসামি গোলজার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী প্রকৌশলীদের আড়াল করতেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। চাকরির শর্ত অনুযায়ী, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও অনুমোদনের কোনো ক্ষমতা ক্যামেরাম্যান গোলজারের ছিল না। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী দরপত্রসহ সব কাজে সই করেন। সেই সময়ের রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ বর্তমানে দুদকের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনও পদোন্নতি পেয়ে রসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হয়েছেন। ঘটনায় তাঁদের দায় এড়াতে কৌশলে ক্যামেরাম্যানকে আসামি করা হয়েছে। জানা যায়, দরপত্র সংবাদপত্রে প্রকাশে ক্যামেরাম্যান-কাম-জনসংযোগ সহকারীর কোনো ক্ষমতা বা প্রমাণ না থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদের একটি প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সাক্ষীকে আসামি বানানোর মামলার অভিযোগপত্রে সে সময় সংশ্লিষ্টরা স্বাক্ষর করার ক্ষমতা থাকার কারণে অভিযুক্ত হতে পারেন এই শঙ্কায় কর্মকর্তা আজাদ ও এমদাদ হোসেনও হন সাক্ষী। সাক্ষী করা হয়েছে পাঁচ মাস আগে মারা যাওয়া দৈনিক দাবানল সম্পাদক খন্দকার গোলাম মোস্তফাকেও। ঘটনার সময় প্রয়াত সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু দায়িত্বে থাকলেও সাক্ষী করা হয় বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমানকে। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পরই ২০১৮ সালের মার্চে রসিকের ১৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে (অস্থায়ী নিয়োগ) ছাঁটাই করে, সে সময় ছাঁটাই হন সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া ক্যামেরাম্যান গোলজার। প্রভাবশালীচক্রকে রেহাই দিতে গোলজারকে ফাঁসানো হচ্ছে এমন অভিযোগের ব্যাপারে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার অভিযোগে যেমন ছিল, সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দিয়েছি। প্রয়াত মেয়র ঝন্টু ওই দুর্নীতি করেছেন এবং গোলজার তাঁর সহযোগী। তবে যাঁরা সংশ্লিষ্ট তাঁদের দায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। আসামি গোলজারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ পরে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হন। সম্প্রতি তিনি দুদকের তদন্ত শাখার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনও বর্তমান মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গোলজারকে সে সময় ছাঁটাই করা হলেও অভিযোগপত্রে লেখা হয় ‘বরখাস্ত’। তিনি ক্যামেরাম্যানের দায়িত্বে থাকলেও অভিযোগপত্রে তা এড়িয়ে তাঁকে সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা বলা হয়। গোলজারের দাবি, হঠাৎ সাক্ষী থেকে তাঁকে আসামি বানানোর তথ্য পেয়ে অবাক হন এবং দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন। এর পরও প্রভাবশালীদের চাপে তাঁকে মামলার একক আসামি করা হয়। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গোলজার দুদক চেয়ারম্যানের কাছে পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা