kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

করোনার ধাক্কায় বন্ধ দ্বার খোলেনি এখনো

সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র

ফাতিমা তুজ জোহরা   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার ধাক্কায় বন্ধ দ্বার খোলেনি এখনো

করোনার ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যাওয়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর দরজা এখনো খোলেনি। মহামারির দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ধীরে ধীরে অফিস-আদালত নিয়মিত সচল হলেও সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো না খোলায় মহাবিড়ম্বনায় পড়েছেন চাকরিজীবী অভিভাবকরা।

দেশে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ৬৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। সরকারি কেন্দ্রগুলোর অফিস খোলা থাকলেও শিশুদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বাসায় আছেন বলে জানান। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র কেন খোলা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা বলেন, করোনার কারণে শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র এখনো নিরাপদ নয়। একই সঙ্গে শিশুদের দূরত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জায়গা স্বল্পতাও রয়েছে।

কিন্তু একই সময়ে গার্মেন্ট ও কারখানার নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য জাতীয় মহিলা সংস্থা পরিচালিত দেশজুড়ে ১৫টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র খোলা আছে। সেখানে গার্মেন্ট ও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের সন্তানদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কি নেই, এমন প্রশ্নই উঠছে এখন। রাজধানীর উত্তর বাড্ডার এমন একটি দিবাযত্ন কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের এখানে বর্তমানে ৩০টি শিশু আছে। ডে-কেয়ার সেন্টারের ইনচার্জ ফারজানা নাজনীন এ তথ্য নিশ্চিত কমরন।

স্বাভাবিকভাবে অফিস-আদালত খোলা থাকায় চাকরিজীবী মায়েদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র খুলে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অভিভাবকরা ফোন দিয়ে কবে নাগাদ ডে-কেয়ার খুলতে পারে তা জানার চেষ্টা করছেন। রাজধানীর বিভিন্ন শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওপরের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাবটা কম নয়। গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৯ কোটি ৪১ লাখ ৯ হাজার টাকা। ব্যয় ছিল ১৫ কোটি ৪৫ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা। বিনিময়ে সেবা পেয়েছে মাত্র দুই হাজার ৪১৭টি শিশু। সেই ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্র দুই হাজার ৮৩০টি শিশুর সেবা দিতে সক্ষম। অন্যদিকে অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত অন্য ২০টি দিবাযত্ন কেন্দ্র ৭০০ শিশুকে সেবা দিতে পারে। সব মিলিয়ে সরকারিভাবে মোট তিন হাজার ৫৩০টি শিশু সেবার সুযোগ পায়।

সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য যেসব ব্যবস্থা: এখানে শিশুদের লালন-পালন করা হয় মাতৃস্নেহে। শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিশুদের সুষম খাবার (সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাশতা), প্রাক-স্কুল শিক্ষা, ইনডোর খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের শিষ্টাচার, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জ্ঞান দেওয়া হয়। এ ছাড়া চিত্তবিনোদনের জন্য টিভি রয়েছে। ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিই নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য। বাকি ১০টি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। মধ্যবিত্ত দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা; ভর্তি ফি ৫০০ টাকা। নিম্নবিত্ত দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাসিক চাঁদা ১০০ টাকা, ভর্তি ফি ১০০ টাকা। খোলা থাকে ৯ ঘণ্টা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

মিরপুর ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা শাহীন আরা খাতুনকে কর্মস্থলে না পেয়ে ফোনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আমি অফিসে নেই। এখন আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। আগের কোনো অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগও হয় না।’

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ভবনের সপ্তম তলায়ও আছে একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি নিজেও তাঁর সন্তানকে এখানে রাখতেন। এ অবস্থায় সন্তানকে এখন বাসায় রেখে আসতে হয়। কেন্দ্র বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা সমস্যায় পড়ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা কোনো না কোনোভাবে ম্যানেজ করছেন। একটা ব্যবস্থাও করেছেন। তবে অনেকে আছেন যাঁদের একেবারেই কোনো সাহায্যকারী নেই। তাঁরাও খোঁজ নিচ্ছেন, ফোন দিচ্ছেন।

স্কুল খোলার পর দিবাযত্ন কেন্দ্র খুলতে পারে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারী। অভিভাবকরা যোগাযোগ করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্র খোলার চাহিদা নেই। অভিভাবকরাও চাইছেন না।

তবে উল্টো সুরে কথা বলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের দিবাযত্ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আল আমিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অভিভাবকরা অনেকেই আমাদের কাছে চিঠি দিচ্ছেন। তাঁরা জানতে চাইছেন কেন্দ্র খুলবে কি না। আমরা বলছি, ওপরের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দিবাযত্ন কেন্দ্র খোলা হবে না। গার্মেন্টকর্মীদের শিশুরা কি তাহলে করোনা ঝুঁকিতে নেই—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটির বিষয়ে আমি বলতে পারব না। এটি যাঁদের আওতায় তাঁরা বলতে পারবেন।

মন্তব্য