kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

চাঁদা না পেয়ে যুবককে জেলে পাঠাল ছাত্রলীগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজশাহীর পুঠিয়ায় চাঁদা না পেয়ে এক যুবকের নামে সাজানো চুরির মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব খান ও পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা করম আলীর নাতি মো. রাশেলের (৩০) নামে এ মামলা দেওয়া হয়। পরে  পুলিশ ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এমন অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা করম আলীর পরিবারের সদস্যরা।

করম আলীর স্ত্রী আম্বিয়া বেওয়া (৭০) বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা হাবিব ও জাহাঙ্গীর ষড়যন্ত্র করে আমার নাতি রাশেলকে জেলে পাঠিয়েছে। আমি এই ষড়যন্ত্রের বিচার চাই।’ রাশেলের মা সানোয়ারা বেগম চানু অভিযোগ করেন, রাশেল তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন সম্প্রতি। এরপর ওই স্ত্রী দেনমোহর নিয়ে সম্প্রতি রাশেলের নামে একটি মামলা করেন। রাশেলের কাছে তাঁর স্ত্রী সাড়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহর দাবি করেন। পরে ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম সমঝোতার দায়িত্ব নেন। তাঁরা দুই মাস আগে পুঠিয়া থানায় সমঝোতা বৈঠক বসিয়ে বাদীকে দুই লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে মামলা সমঝোতা করে দেন। এ ঘটনার পর হাবিবুর ও জাহাঙ্গীর সমঝোতা করে দেওয়ার বিনিময়ে রাশেলের কাছে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু রাশেল টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে তাঁরা রাশেলকে পিটিয়ে থানায় দেন। তখন হাবিব পুলিশকে জানান, তাঁকে হত্যাচেষ্টা চালায় রাশেল। এ ছাড়া তাঁর দামি ফোন চুরি করতে গিয়েছিল রাশেল। ফলে রাশেলের নামে হাবিবকে হত্যাচেষ্টা ও মোবাইল ফোনসেট চুরির অভিযোগ তুলে মামলা দেওয়া হয়। পরদিন ওই মামলায় পুলিশ রাশেলকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব খান বলেন, ‘আমি কোনো সমঝোতা করে দিইনি। তাঁর স্ত্রীকেও আমি চিনি না। এসব মিথ্যা কথা।’ পুঠিয়া ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাশেলের কাছে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছি এটা সঠিক নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা