kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে বাম জোটের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সুপ্রিম জুুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে নির্বাচন কমিশনকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাঁরা এই আহ্বান জানান।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’-এর আয়োজক ও দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম জোট সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফী রতন। বক্তব্য দেন সিপিবির সম্পাদক আহসান হাবীব লাবলু, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, বাসদের (মার্ক্সবাদী) আ ক ম জহিরুল ইসলাম, ইউসিএলবির নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিনের ভোট রাতে করা হয়। সেই ভোটকে বৈধতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন তার সব ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা হারিয়েছে। এ নির্বাচন কমিশন শুধু তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়নি। তারা নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, যা এরই মধ্যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা বক্তৃতা না দিয়ে বক্তা হিসেবে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি। একজন নির্বাচন কমিশনার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চার কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন। ইভিএম ক্রয় ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আরো বলেন, এই কমিশন নৈতিকভাবে স্খলিত। এরা এরই মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যাদের নির্বাচন পরিচালনার বৈধ ও নৈতিক কর্তৃত্ব অবশিষ্ট নেই বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

নেতৃবৃন্দ ভোট ডাকাতির আয়োজক ও আর্থিক দুর্নীতিগ্রস্ত এই নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে তাহলে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে অবিলম্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বরখাস্ত করতে হবে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যথাযথ উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।