kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হবে। তবে এখনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। করোনা মহামারির আগে থেকেই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখলেও করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে এই বৈঠক হয়নি বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

ওই সূত্র অনুসারে, এখন থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ ও ভারতে বৈঠক হবে দুই দেশের যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এই বৈঠকের আগে ভারতের নদী কমিশনের একটি টিম বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিমকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে ঈশ্বরদীর পাকশী পয়েন্টে নদীর পানি মাপজোখ করেছে। এই কাজ আগামী বছর পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপান্বিতা সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়তো যৌথ নদী কমিশনের দ্বিপক্ষীয় একটি বৈঠক হবে। এর ধারাবাহিকতায় এখন থেকে নিয়মিত দুই দেশে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হবে। মন্ত্রণালয় থেকে এমনই সিদ্ধান্ত আছে। এ জন্য প্রস্তুতিও চলছে। যেখানে পানি কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে বলে মনে হয়।

এদিকে গত শনিবার বাংলাদেশ-ভারত যৌথ টিম দুই দেশের ছয় সদস্যের পানি পর্যবেক্ষণ দল ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি পরিমাপ করে ওই পয়েন্টে গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৩৩০ কিউসেক পানি কম পেয়েছে। গতকাল পাওয়া গেছে ৭৮ হাজার ২৪৪ কিউসেক পানি। গত বছরের এই সময় একই পয়েন্টে পানি ছিল এক লাখ দুই হাজার ৫৭৪ কিউসেক। আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত এই পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণকাজ চলবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারত থেকে আসা দুজন এবং বাংলাদেশের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত শনিবার দুপুরে পর্যবেক্ষণকাজ শুরু করে। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন দেশটির কেন্দ্রীয় নদী কমিশনের উপপরিচালক ভেংকটেশ্বর লুই ও সহকারী পরিচালক নগেন্দ্র কুমার। বাংলাদেশের পক্ষে টিম লিডার হিসেবে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন, ফিল্ড টিম লিডার হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোর্শেদুল ইসলাম এবং প্রতিনিধি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন ও তহিদুল ইসলাম রয়েছেন।

রইচ উদ্দিন জানান, গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে পদ্মা নদীতে যৌথভাবে বাংলাদেশ-ভারত প্রতিনিধিদল হিস্যা অনুযায়ী পানির প্রাপ্যতা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। আর প্রতি ১০ দিন পর পর তিন দফায় পানির প্রাপ্যতা পরিমাপ করে পাওয়া তথ্য দুই দেশের নদী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এবার পদ্মার পানিপ্রবাহ পরিমাপ-পর্যবেক্ষণের প্রথম দিনে শনিবার সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৬.২১ মিটার এবং বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা কমে দাঁড়ায় ৬.১৯ মিটার।



সাতদিনের সেরা