kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা

বিদ্যুতে দেশি কয়লা ব্যবহার না করার নীতি আত্মঘাতী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যাসের কারণে কমদামে বিদ্যুৎ পাচ্ছি, গ্যাস ফুরিয়ে আসছে, এখন কয়লার সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশীয় কয়লা থেকে সরে থাকার নীতি আত্মঘাতী। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা জরুরি। গতকাল শনিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার পত্রিকা আয়োজিত ‘২০২১ সালের এনার্জি চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে আলোচকরা এমন মন্তব্য করেন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও আমাদের অর্জন অনেক ভালো। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ২৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এক বছর হাতে থাকতেই গ্রিড এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এবং সাড়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্যাপাসিটি অর্জন করেছি। চলতি বছরেই ৫০ শতাংশ অটোমেশন হবে।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, ‘যদি আমরা ভারতের হোলসেল মার্কেটে অংশ নিতে পারি। তাহলে কমদামে বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। আমাদের মাত্র দুটি লাইন। তারা যেহেতু বাড়তি উৎপাদন করছে, আমরা তা আমদানি করতে পারি। ভারতের সঙ্গে কমপক্ষে আরো দু-তিনটি পয়েন্ট বাড়ানো উচিত।’

পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, দেশ গ্যাস উত্তোলনে অনেক পিছিয়ে, কারণ সিদ্ধান্তহীনতা। লো-প্রাইস এবং মাল্টিক্লেইন সার্ভের অভাবে অফশোরগুলো বেশি অগ্রসর হতে পারেনি। হাইপ্রেসার জোনে বাপেক্স যেখানে পারছে না, সেখানে পিএসসির মাধ্যমে করা যেতে পারে। কয়লাকে বাদ দিলে চলবে না। এটি এখনো সাশ্রয়ী এনার্জি। নিজস্ব কয়লা ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে।

বিপ্পার প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম বলেন, ক্যাপটিভ ও অন্যান্য বাদ দিলে প্রকৃতপক্ষে ১৫ হাজার মেগাওয়াট দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণেও প্রাইভেটাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় আরএমআইটির অধ্যাপক ড. ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমাদের যে ১০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি। যেকোনো প্রেক্ষাপটে এটি ভালো বলতে হবে। আমাদের আবাসিকে ৫৭ শতাংশ এবং শিল্পে মাত্র ২৮ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতে শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪১ শতাংশ। এই ব্যবহার বাড়ানো উচিত। শিল্পে কিভাবে ব্যবহার বাড়ানো যায়, এটি দেখতে হবে। আবাসিকে কিভাবে সাশ্রয়ী হওয়া যায়, সেটিও ভেবে দেখা দরকার। ভেন্টিলেশনের দিকে যেতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ হচ্ছে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। কয়লা ২৫ শতাংশের নিচে যেন না নামে। যদি কয়লা বাদ দিয়ে শুধু অন্যান্য এনার্জি-নির্ভর হই, তাহলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।’

মন্তব্য