kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ছয়টি চিনিকল বন্ধ ঘোষণা

প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শত শত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এসব এলাকার বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এসব প্রতিষ্ঠানে জড়িত বহু মানুষ জীবিকা হারাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

রাষ্ট্রায়াত্ত ছয় চিনিকল বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ। গতকাল গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ চিনিকলের সামনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের ১৫টি চিনিকলের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আগেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে অধিকতর সমস্যা ও লোকসান বিবেচনায় মন্ত্রণালয় পাবনা সুগার মিলস, কুষ্টিয়া সুগার মিলস, পঞ্চগড় সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, রংপুর সুগার মিলস ও সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস—এই ছয়টি মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের এসংক্রান্ত চিঠি কারখানাগুলোয় আসছে শুনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিক, কর্মচারী ও আখ চাষিরা। তাঁরা দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিভিন্ন শ্রমিক, কর্মচারী ও আখ চাষিদের সংগঠন, ফেডারেশন ও ইউনিয়নের নেতারা জানান, করোনা মহামারিতে কয়েক মাস ধরে তাঁরা বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। মিল বন্ধ হওয়ায় তাঁরা অথৈ পানিতে পড়লেন।

তাঁরা বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শত শত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এসব এলাকার বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এসব প্রতিষ্ঠানে জড়িত বহু মানুষ জীবিকা হারাবে।

তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বিলাসবহুল গাড়িসহ সব ধরনের কেনাকাটায় ব্যাপক লুটপাটের জন্য পুরো সংস্থাই লোকসানের মুখে পড়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, চিনিশিল্প আধুনিকায়নের নামে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ না করে চিনিকলগুলোকে ঋণে জর্জরিত করে রেখে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন এই দুর্নীতিবাজ আমলারা। তাঁদের অপকর্মের ভার সাধারণ চাষি ও শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন তাঁরা এটা মেনে নেবেন? বেসরকারি চিনিকলগুলোর দালাল হিসেবে দুর্নীতিবাজ আমলারা চিনিকল বন্ধ করার মাধ্যমে চিনিশিল্পকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে পাবনা, গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ ও দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জে। এর মধ্যে পাবনা চিনিকলের গেটের সামনে পাবনা-দাশুড়িয়া মহাসড়কে কয়েক দফা অরবোধ করতে গিয়ে পুলিশের বাধায় পড়েন শ্রমিক-কর্মচারীরা। গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কের চিনিকলের সামনের কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। সেতাবগঞ্জ চিনিকলের মূল ফটকের সামনের সড়কে কর্মসূচি পালন করে মিল চালু রাখাসহ পাঁচ দফা দাবি জানান শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিরা।

মুজিববর্ষে চিনিকলগুলো যাতে বন্ধ না হয়, এ জন্য আগে থেকে নানা কর্মসূচি পালন করছিলেন তাঁরা। গতকাল তা আরো বেগবান হয়।

পাবনা সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, আখের জমি, চিনি আহরণের হার, মিলের অবস্থা/উৎপাদনক্ষমতা, লোকসান ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনায় ছয়টি সুগার মিলসে চলতি মাড়াই মৌসুম আখ মাড়াই বন্ধ রাখার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে। এর পরই মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তিনি জানান, মিলের অধীনে আখ চাষি পাওনাদার, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনসহ যাবতীয় বকেয়া, পাওনা প্রতিশোধসহ মিলের অবস্থা চিঠির মাধ্যমে করপোরেশনকে জানানো হয়েছিল।

চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সনৎ কুমার সাহা জানান, ছয়টি সুগার মিলস বন্ধের সুপারিশ করে বেশ কিছুদিন আগেই চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয় এতে সম্মতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বন্ধ হওয়া মিলের কিছু শ্রমিক-কর্মচারীকে চালু থাকা মিলসগুলোতে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে মিলগুলোর অধীন চাষ হওয়া আখ নিকটবর্তী চালু থাকা সুগার মিলে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

চিনিকল বন্ধের প্রতিবাদে এবং কলগুলো চালুর দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ছয়টি মিলের শ্রমিক নেতারা ঢাকায় চিনি ও খাদ্য শিল্প ভবনে সমাবেত হবেন বলে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন প্রতিনিধি, ঈশ্বরদী (পাবনা), বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) ও গাইবান্ধা]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা