kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৩০ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

তেহসিন আশরাফ প্রত্যয়, খুবি   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩০ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর চার ডিসিপ্লিনে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার সর্ববৃহৎ বাতিঘর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আজ ২৫ নভেম্বর শিক্ষা কার্যক্রমে ৩০ বছরে পা রেখেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, হানাহানি ও সহিংসতা মুক্ত এই ক্যাম্পাসে রয়েছে উচ্চশিক্ষার যথাযথ পরিবেশ এবং চার বছরে ডিগ্রি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা।

শিক্ষা ও গবেষণা

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি স্কুল (অনুষদ) ও ২৯টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হয়। সমন্বিতভাবে ১ জানুয়ারি সব বিভাগের ক্লাস শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দুই সেমিস্টার শেষ হয়। করোনা মহামারিতেও প্রথম থেকেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জুলাই মাসের মধ্যেই সব ডিসিপ্লিনের প্রথম সেমিস্টারের থিওরি ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন শেষ হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিস্টারের এসব কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ডিভাইস কেনার জন্য ৪০৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। যদিও শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষাঋণের মতো শিক্ষাবৃত্তির টাকাও করোনার মধ্যেই দেওয়া হলে তাঁরা বেশি উপকৃত হতেন। 

গত তিন দশকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে। একমাত্র খুবিতেই স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক থিসিস করতে হয় এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য পিএইচডি ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫০০ শিক্ষকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাস্তবধর্মী গবেষণা করে থাকেন। ২০১৯ সালে স্পেনের সিগমো ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কোপাস পরিচালিত জরিপে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে প্রথম এবং গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। একই প্রতিষ্ঠানের জরিপে ২০২০ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে প্রথম এবং গবেষণায় দশম অবস্থানে রয়েছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই অভিযোগ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিসরে গবেষণা করা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী বরাদ্দ এখনো অপ্রতুলই রয়ে গেছে।

শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে অন্যতম বড় বাধা ইন্টারনেট সেবা পেতে ঘাটতি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাবলিক প্লেস ও আবাসিক হলগুলোতে নামমাত্র ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুরনো ডিসিপ্লিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সেবার ব্যবস্থা থাকলেও নতুন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আবাসনব্যবস্থা অপ্রতুল

খুবিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট পাঁচটি হলে আবাসনব্যবস্থা রয়েছে মাত্র দুই হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর। শিক্ষার্থীদের দাবি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করেছে। তাই তিন দশকে মাত্র ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসনব্যবস্থা তৈরি করতে পারাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

জায়গার অভাব

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় হবে জায়গার অভাব। জায়গার অভাবে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটি জোবা (নরম) মাটির হওয়ার পরও প্রশাসন বহুতল ভবন নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে। এর পরও আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর পর জায়গাসংকট তীব্র হয়ে দেখা দেবে। তাই আগামী ১০০ বছরের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনকে সামনে রেখে বর্তমান ১০৬ একর জমির সঙ্গে ক্যাম্পাসসংলগ্ন ২০৩ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ৩৫টির মতো সংগঠন। প্রতিষ্ঠার তিন দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোনো টিএসসি। তাই সংগঠনগুলোকে বসার প্রয়োজনীয় জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পায় না। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা হয় না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির দিকে জোর দিয়েছি। চলতি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০২২ সালের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যমত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা