kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ক্রেতা কম পেঁয়াজের

বন্ধ হয়নি টিসিবির অন্যান্য পণ্যের কালোবাজারি

রোকন মাহমুদ   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রেতা কম পেঁয়াজের

চীন, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহ বাজারগুলোতে। এদিকে পাতাসহ পেঁয়াজ নামতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে সব ধরনের পেঁয়াজের দামই বেশ কিছুটা কমে এসেছে। পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহে বাজারে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ক্রেতা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। বিশেষ করে আমদানি করা পেঁয়াজের বাজারে এই সংকট বেশি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাকে করে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও আগের মতো ক্রেতার ভিড় নেই। দিনশেষে সব পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না অনেক ডিলার। ডিলাররা বলছেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে আসায় আমদানি করা পেঁয়াজের তেমন চাহিদা নেই। তবে টিসিবির অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কালোবাজারে বিক্রি বন্ধ হয়নি।

ক্রেতারা বলছে, আমদানি করা এসব পেঁয়াজে দেশের ভোক্তা শ্রেণি অভ্যস্ত নয়। বাজারে দেশি পেঁয়াজ সরবরাহে ঘাটতি থাকলে এবং দাম গলাকাটা পর্যায়ে উঠে গেলে মানুষ বাধ্য হয়ে আমদানি করা পেঁয়াজ কেনে। এখন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে আসায় আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা কমে গেছে।

রাজধানীর ইত্তেফাক মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, শান্তিনগর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে টিসিবির পেঁয়াজের ট্রাক বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলেও ক্রেতা খুবই কম। মাঝে মাঝে চলতি পথে কেউ কেউ তিন-চার কেজি কিনে নিচ্ছে। তবে এসব ক্রেতার বেশির ভাগই রিকশাচালক, হোটেলের কর্মচারী, ফেরিওয়ালাসহ অন্যান্য পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ। অথচ মাস দেড়েক আগেও মধ্যবিত্ত শ্রেণি টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনেছে।

ইত্তেফাক মোড়ে গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গিয়ে পেঁয়াজের ট্রাক নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল ভারটেক্স ইন্টারন্যাশনাল নামের ডিলারের বিক্রেতাদের। তাঁরা জানান, সকাল ১০টায় দুই হাজার ২০০ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে বসেছেন। সাড়ে চার ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩০০ কেজি। অথচ মাসখানেক আগেও মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সব পণ্য বিক্রি হয়ে যেত। দুলাল নামের এক বিক্রয় প্রতিনিধি

জানান, টিসিবি থেকে আনা বৃহস্পতিবারের পেঁয়াজ তিন দিনেও বিক্রি করে শেষ করতে পারেননি তাঁরা।

গতকাল সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। বিকেল ৪টায় শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে দেখা যায় পেঁয়াজের ট্রাকের সামনে কোনো ক্রেতা নেই। বিক্রেতাদের একজন বলেন, ‘ঘণ্টা দুয়েক হয় ট্রাক ভিড়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন ক্রেতা পেয়েছি। যে যতটুকু চায় দিয়ে দিচ্ছি। কারণ এসব পেঁয়াজ বেশি দিন রাখা যায় না।’

টিসিবি আগে ভ্রাম্যমাণ প্রতিটি ট্রাকে তেল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজ মিলে দুই হাজার ২০০ কেজি পণ্য দিত। এখন শুধু পেঁয়াজ দিচ্ছে। মাঝে মাঝে অন্য তিন পণ্যও দেওয়া হয়। তবে পরিমাণে কম।

বাজারে এখন চার ধরনের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। আগের মৌসুমের দেশি হাউব্রিড, চলতি মৌসুমের কলিসহ ছোট পেঁয়াজ, আমদানির বড় সাদা ও বেগুনি রঙের পেঁয়াজ। মাস দুয়েক আগে দেশি পেঁয়াজ প্রায় ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। কলিসহ পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আর আমদানির পেঁয়াজ নেমেছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। টিসিবির ট্রাকে বিক্রি করছে ৩০ টাকায়। আর অনলাইনে রাখা হচ্ছে ৩৬ টাকা, সঙ্গে কেজিপ্রতি ১০ টাকা ডেলিভারি চার্জ।

আমদানি করা পেঁয়াজের দাম অনেক কম হলেও টিসিবির মতো খুচরা বাজারগুলোতেও তেমন বিক্রি নেই। মুগদা বাজারের বিক্রেতা আমিন উদ্দিন বললেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি হলেও কিছুটা চলছে; কিন্তু আমদানির পেঁয়াজ আনলেই লোকসান হয়। দাম কমিয়েও বিক্রি করা যায় না।’

রাজশাহীতে টিসিবির পণ্য কালোবাজারে : এদিকে টিসিবির স্বল্প মূল্যের পণ্য কালোবাজারে বিক্রি বন্ধ হয়নি। গতকালও রাজশাহী মহানগরের উপশহর নিউ মার্কেটে তুষার ভ্যারাইটিজ স্টোর থেকে টিসিবির ৪০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ জানান, পুলিশের সহায়তায় তিনি মহানগরের উপশহর নিউ মার্কেট, সাধুর মোড় ও দেবিশিং পাড়া এলাকায় তাঁরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা