kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

যাত্রীবাহী বাসে লাশ

পাওনা টাকার জেরে হত্যা করা হয় সাবিনাকে!

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাস টার্মিনালে যাত্রীবাহী বাসে ড্রামের ভেতর পাওয়া লাশটি তিন সন্তানের জননী সাবিনা বেগমের (৩৪)। পুলিশের ধারণা, পাওনা টাকার জেরে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে সাবিনাকে। গতকাল রবিবার এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ভিমেরপাড় গ্রামের আ. খালেক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত সাবিনা বেগম গৌরনদী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিয়াশুর এলাকার শহিদুল ইসলাম ওরফে শফিকুলের স্ত্রী। শফিকুল কাতারপ্রবাসী। সাবিনা তিন সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় থাকতেন। অভিযুক্ত খালেক তাঁদের প্রতিবেশী।

সাবিনার দেবর মো. মনির হাওলাদার জানান, কাতার যাওয়ার জন্য খালেক হাওলাদার সাবিনাকে চার লাখ টাকা দেন। বিদেশে পাঠাতে দেরি হওয়ায় খালেক টাকা ফেরত চান। সাবিনা তাঁকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেন। বাকি টাকার জন্য বিভিন্ন সময় তাগাদা দিতেন খালেক। বিদেশ যেতে না পেরে খালেক বরিশাল নগরীর কাশীপুর আনসার ব্যাটালিয়ন অফিসসংলগ্ন ভূঁইয়াবাড়ি মসজিদের পাশে ব্যাংকার শচীন রায়ের নির্মাণাধীন একটি ভবনে ম্যানেজারের কাজ নেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে গত শুক্রবার সকালে গৌরনদীর দিয়াশুর গ্রামে আসেন সাবিনা। ওই দিন সকাল ৯টায় বরিশাল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে একা বের হন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার পরিদর্শক মো. আফজাল হোসেন জানান, সাবিনার মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে খালেকের কর্মস্থল নির্মাণাধীন ভবনটি চিহ্নিত করা হয়। তিনি ধারণা করছেন, বাদানুবাদের একপর্যায়ে খালেক তাঁর মাথার পেছনে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। গলায় রশি পেঁচিয়ে সাবিনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করতে বড় ড্রামের মধ্যে সাবিনার লাশ ঢুকিয়ে গড়িয়ারপাড় বাসস্ট্যান্ড থেকে ভূরঘাটাগামী যাত্রীবাহী একটি লোকাল বাসের ভেতর ড্রামটি উঠান খালেক। বাসটি ভূরঘাটা যাওয়ার পর তিনি ভ্যান আনার কথা বলে চলে যান। কেউ ড্রামটি নিতে না আসায় বাসের শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ড্রামের ঢাকনা খুললে এক নারীর লাশ দেখে তাঁরা থানা পুলিশকে খবর দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা