kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চার দাবি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের

শাহবাগে সড়ক অবরোধ যানজট, পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাহবাগে সড়ক অবরোধ যানজট, পুলিশের বাধা

সেশনজট নিরসনসহ চার দফা দাবিতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

চার দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। চার দফা দাবিতে গতকাল রবিবার সকালে এই বিক্ষোভকালে শাহবাগ মোড় হয়ে আশপাশের সব সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ তাঁদের সড়ক মোড় থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

করোনা মহামারিতে প্রুফ পরীক্ষা না নেওয়া, সেশনজট দূর করে অবিলম্বে পরবর্তী পর্যায়ের অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেওয়া, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬০ মাসের বেশি বেতন না নেওয়া এবং করোনা মহামারির সময়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে কেউ আক্রান্ত হলে কর্তৃপক্ষকে এর দায়ভার নেওয়ার দাবিতে গতকাল সকাল ১১টার পর সড়কে অবস্থান নেন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কে যানজট লেগে যায়। এসব উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুপক্ষে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ কঠোর ভূমিকা নিলে বিক্ষোভকারীরা দুপুর দেড়টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান। পরে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিনের কাছে স্মারকলিপি দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাঁরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরে নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পেশাগত (প্রুফ) পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষায় বসতে চান না মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় সেশনজট দূর করতে এবং যথাসময়ে কোর্স শেষ করতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পরবর্তী ধাপের ক্লাস অনলাইনে শুরুর দাবি তাঁদের।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, তাঁদের ৬০ মাসের বেতন পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। এই সময়ে এভাবে বেতন আদায় করাটা অযৌক্তিক ও অন্যায়। 

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, অন্য শিক্ষা আর মেডিক্যাল শিক্ষা এক করে দেখা যাবে না। তাই মেডিক্যাল শিক্ষায় পরীক্ষা না দিয়ে অটো পাসের কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীরা যদি ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিতে না চান তাহলে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারিতে দিতে পারবেন। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে পরীক্ষা না নিয়ে পরবর্তী ধাপের ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। বিএমডিসির কারিকুলামে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা