kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশেষ অধিবেশনে করোনা সনদ বাধ্যতামূলক

৩ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশেষ অধিবেশনে করোনা সনদ বাধ্যতামূলক

একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন আগামী ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম চলবে আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর। ওই সময়ে সংসদ ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার করোনাভাইরাস নেগেটিভ থাকা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টারে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু হবে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৮ নভেম্বর সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাব ও অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। পরদিন ৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। ওই দিন অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেবেন। বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর ওই ভাষণের ওপর তা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সাধারণ প্রস্তাব আনা হবে। ওই প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা পাস হবে। দুই দিনের ওই আলোচনায় সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২২ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন (সপ্তম অধিবেশন) আহ্বান করা হলেও দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের অফিস-আদালত খুলে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ নতুন করে অধিবেশন ডাকা হয়েছে। আগের তিনটি অধিবেশনে সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিশেষ অধিবেশনের দুই দিনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে গণমাধ্যমকর্মীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের। তবে তাঁদের করোনা নেগেটিভ সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখার পরিচালক তারিক মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে। তবে তাঁদের কভিড-১৯ টেস্ট করাতে হবে। ফলাফল নেগেটিভ হলে সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ পাস দেওয়া হবে। আগামী ৬ নভেম্বর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাকালীন বিগত তিনটি অধিবেশনের মতো আগামী অধিবেশনেও সংসদ সদস্যরা রোস্টার ভিত্তিতে সংসদে প্রবেশ করবেন। তবে বিশেষ অধিবেশনের বৈঠকের দুই দিনে করোনা নেগেটিভ সবাই সংসদে যোগ দিতে পারবেন। করোনা সংক্রমণের কারণে কোনো বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। তবে বিশেষ অধিবেশনে প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিদেশি কুটনীতিক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা সংসদ গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদের আগামী অধিবেশনে কয়েকটি কার্যসূচি থাকবে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে আইনে পরিণত এসংক্রান্ত বিল উত্থাপন ও পাস করাতে হবে। এ ছাড়া আরো কয়েকটি বিল ও রিপোর্ট উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা