kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

বিধিমালা নেই, সবখানে হচ্ছে না ডোপ টেস্ট

এস এম আজাদ   

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিধিমালা নেই, সবখানে হচ্ছে না ডোপ টেস্ট

দেশের সব কর্মস্থল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দুই বছর আগে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে (২০১৮) ডোপ টেস্টের বিধান রাখা হলেও তৈরি হয়নি বিধিমালা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী সব বিভাগে ডোপ টেস্ট কার্যকর করতে প্রস্তাবিত ‘ডোপ টেস্ট বিধিমালা’ এখন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ডোপ টেস্টের জন্য একটি প্রকল্পও আছে প্রক্রিয়াধীন। এগুলো চূড়ান্ত হলে সব সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে রক্ষা এবং সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে ডোপ টেস্ট করায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য বিধিমালায় ভ্রাম্যমাণ ল্যাবে পরীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও সড়কে ডিএনসির পরিদর্শক, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই/সার্জেন্ট) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিতে পারবেন।

এরই মধ্যে দেশের সব কটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু প্রতিষ্ঠান ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। বিধিমালা হলে পরীক্ষার স্থান সুনির্দিষ্ট হবে। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসার পাশাপাশি বরখাস্তও করা হবে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শতাধিক সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করে মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত ৪০ জনকে চাকরিচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) একইভাবে ডোপ টেস্ট চালু করলেও গত দুই বছরে মাত্র একজনকে মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএনসির সদ্যোবিদায়ি মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ জামালউদ্দীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবখানে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা গেলে মাদক প্রতিরোধে প্রধান কাজ যেটি—চাহিদা কমানো, সেটি হবে। তরুণরা, চাকরিপ্রার্থীরা তখন মাদকে ঝুঁকবে না। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ আরো কিছু কাজে এটি বাধ্যতামূলক করার সুযোগ আইনে আছে।’

ডিএনসির সূত্র জানায়, মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ডোপ টেস্টের পরিকল্পনা করা হয় শিক্ষার্থী ও গাড়িচালকদের কথা চিন্তা করেই। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মাদক বাণিজ্য চালানো দুই হাজার ৮৩৪ জনের নাম উঠে আসে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে দায়ী চালকের মাদক সেবন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৩ সালে ডোপ টেস্টের একটি বিধিমালা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ডিএনসি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বিরোধিতার কারণে সেই প্রস্তাব অনুমোদন পায়নি। ২০১৮ সালে নতুন আইন প্রণয়নের পর আইন অনুযায়ী বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি মাসে সংশোধন বা সুনির্দিষ্ট করে সেটি মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। একই সঙ্গে ডিএনসি ডোপ টেস্ট বাস্তবায়ন করতে একটি প্রকল্পও তৈরি করেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ডোপ টেস্ট বাস্তবায়নে ডিএনসির ডিজির সভাপতিত্বে গঠিত কমিটিতে সব সংস্থার প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকছেন। এই কমিটির নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠান ডিএনসির ল্যাবে বা স্বাস্থ্য বিভাগের ল্যাবে ডোপ টেস্ট করবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, মাদকের মামলায় যেকোনো সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিতে পারবেন। এ ছাড়া পথে-ঘাটে সন্দেহ হলে গাড়িচালক, শিক্ষার্থীসহ সন্দেহভাজনদের তিন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিতে পারবেন। তাঁরা হলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ডিএনসির পরিদর্শক, পুলিশের এসআই বা সার্জেন্ট। যেকোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি ডোপ টেস্টের নির্দেশ দিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিতে পারবে। বিদেশে কর্মী যাওয়ার সময় কর্মসংস্থান ব্যুরো এই নির্দেশ দেবে।

সূত্র জানায়, রাস্তায় তল্লাশির সময় ‘ভ্রাম্যমাণ ল্যাব’ ব্যবহার করা হবে। মেশিনে লালা বা শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে রিপোর্ট দেওয়া হবে। ডিএনসি ২১টি বড় জেলায় ডোপ টেস্টের ল্যাব চালু করতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ডোপ টেস্টের বিপোর্টের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও রাখা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা