kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

কলারোয়ায় চারজনকে হত্যা

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করেন রায়হানুল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



 

 

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে সিআইডি পুলিশ। নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে গতকাল বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় রায়হানুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক জানান, রিমান্ডে থাকা রায়হানুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে। রায়হানুল আগে কাজকর্ম করলেও বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কোনো আয় ছিল না। গত ৯-১০ মাস আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়া নিয়েও তিনি মনঃকষ্টে ছিলেন। তিনি বড় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতেন। এ নিয়ে তাঁর ভাবি সাবিনা খাতুন প্রায়ই তাঁকে গালমন্দ করতেন। এসব নিয়ে প্রতিবেশীদের কাছেও সমালোচনা করতেন ভাবি সাবিনা। এসব নিয়ে রায়হানুলের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেয়। একপর্যায়ে তিনি ভাবিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

ওমর ফারুক জানান, ভাবিকে হত্যার জন্য ১৪ অক্টোবর রাতে ফার্মেসি থেকে ঘুুমের ওষুধ ও স্থানীয় মুদি দোকান থেকে কোমল পানীয় কিনে আনেন রায়হানুল। রাতে ভাত খাওয়ার পর কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভাবি ও ভাইপো-ভাতিজিকে খেতে দেন তিনি। রাতে রায়হানুল তাঁর বড় ভাইয়ের ঘরে থাকা টিভিতে আইপিএল খেলা দেখছিলেন। রাত দেড়টার দিকে বড় ভাই শাহিনুর রহমান মাছের ঘের থেকে বাড়ি ফিরলে তাঁকেও ওই কোমল পানীয় খাওয়ানো হয়। পরে রায়হানুল ঘুমন্ত শাহিনুরকে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পাশের ঘরে থাকা ভাবিকেও একইভাবে হত্যা করে তিনি। এ সময় তাঁর ভাবি চিৎকার দিলে ভাইপো-ভাতিজিও উঠে যায়। তখন তাদেরও গলা কেটে হত্যা করেন রায়হানুল।

গত ১৫ অক্টোবর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রাম থেকে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান, তাঁর স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে মাহি ও মেয়ে তাসনিমের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় বেঁচে যায় শাহিনুর-সাবিনা দম্পতির চার মাস বয়সী শিশুকন্যা মারিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা