kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পেঁয়াজ-চালের পর দাম বাড়ল ভোজ্য তেলেরও

► এক মাসের ব্যবধানে লিটারে বেড়ে গেছে ১০ টাকা
► আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত আমদানিকারকদের
► বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে দ্রুত দাম কমিয়ে আনার আশ্বাস

এম সায়েম টিপু   

৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে চাল মিলছে না। ভারত আকস্মিক রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় পেঁয়াজের দরে যে আগুন লেগেছিল তা থিতু হলেও আর নেমে আসেনি। এবার ভোজ্য তেলের দরে আগুন লেগেছে। এক মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও।

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল খুচরা প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১১৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগেও তা ছিল ১১০ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রূপচাঁদা ও তীর ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হয়েছে ৫৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ৫০০ টাকা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক মাসে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৪ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও তা ছিল ৮২ থেকে ৯৩ টাকা। আর এক মাস আগে ছিল ৮২ থেকে ৮৭ টাকা লিটার।

কারওয়ান বাজারের সততা স্টোরের মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এক মাস আগেও পাম অয়েল ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা লিটার। বর্তমানে তা ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। এক মাসের মধ্যে দুই দফায় লিটারে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। প্রতি লিটার তীর ব্র্যান্ডের তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা। আর রূপচাঁদা পাঁচ লিটারে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা জানান, গতকাল পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রতি মণ তিন হাজার ৩৫০ টাকা আর প্রতি লিটার ৮২ টাকা। চাহিদা প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর হলেও মিলে ও বাজারে ভোজ্য তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে পাম অয়েল। পাম অয়েলের দাম বাড়লে অন্যগুলোতেও প্রভাব পড়ে। করোনাভাইরাসের কারণে মে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের তেলের দাম ছিল সহনীয়। জুন থেকে আমদানি বাড়া শুরু করতেই পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম বেড়ে যায়।

ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ। শিল্প গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব পড়েছে ভোগ্যপণ্যের বিশ্ববাজারে। অন্য অনেক পণ্যের সঙ্গে দাম বেড়েছে ভোজ্য তেলেরও। এর প্রভাবে দেশের বাজারে দাম বাড়লেও তা সাময়িক। শিগগিরই দাম কমে আসবে বলে আশা করছি আমরা।’

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যতালিকা ট্যারিফ কমিশনে জমা দেওয়ার পরই আমদানিকারকরা দেশের বাজারে দাম বাড়িয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও দাম কমে আসবে।

বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোজ্য তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে গত সোমবার উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে ভোজ্য তেলের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। মিল মালিকরাও দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রয়োজনে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার উদ্যোগ নেবে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সূত্র জানায়, দেশে ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৯ লাখ টন। এর অর্ধেকের বেশি পাম অয়েল। সয়াবিনের চাহিদা ১০ লাখ টনের মতো। খুচরা পর্যায়ে এই সব তেলেরই দাম বেড়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছামাত্র প্রতি টন সয়াবিনের গড় মূল্য জুন মাসে ছিল ৬২৩ ডলার। ক্রমান্বয়ে তা বেড়ে জুলাইয়ে ৬৩৬, আগস্টে ৭১১ ও সেপ্টেম্বরে ৭৪৬ ডলারে ওঠে। অর্থাৎ তিন মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা