kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

‘নিহত’ স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরা

বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

‘আইন কমিশনের সুপারিশ কি সরকার মানে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জে ‘নিহত’ স্কুলছাত্রী জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের মুখ্য মহানগর হাকিমকে এ বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তে আসামি, বাদী, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ সবার সাক্ষ্য নিতে বলা হয়েছে। সাক্ষগ্রহণের সময় আসামি কোনো আইনজীবীকে রাখতে চাইলে তা পারবে, এমনকি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়। এ বিষয়ে আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার সময় আইনজীবীর উপস্থিতি এবং আসামির বক্তব্য অডিও-ভিডিও রেকর্ড করার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবীর করা এক আবেদনের ওপর শুনানির পর এ আদেশ দেন আদালত। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

এদিকে গতকাল শুনানিকালে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘হাইকোর্ট জাতীয় সংসদকে আইন সংশোধন বা প্রণয়নের আদেশ দিতে পারেন কি না।’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আবেদনের কোথাও আইন সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া হয়নি। আর আদালত জাতীয় সংসদকে এই নির্দেশনা দিতেও পারেন না। তবে আদালত আইনের ভেতরে থেকেই একটি গাইডলাইন করে দিতে পারেন।’ আইনজীবী আরো বলেন, ‘৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার ও ১৬৭ নম্বর ধারায় কী করা যাবে—সে বিষয়ে সব বলা আছে। এর পরও ব্লাস্টের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে গাইডলাইন ঠিক করে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার কোথাও বলা নেই যে অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে না। যেখানে বিধি-নিষেধ নেই সেখানে আদালত আইনের ভেতরে থেকেই গাইডলাইন করে দিতে পারেন। আইনজীবী উপস্থিত থাকলে আইনের কোনো ব্যত্যয় হবে না।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেসব খবর দেখি তাতে মনে হচ্ছে, আইনটি সংশোধন বা পরিমার্জন হওয়া প্রয়োজন। তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি সংশোধনের প্রয়োজন যদি মনে না করেন আইন প্রণেতারা, তাহলে কি আমরা করতে পারি?

জবাবে শিশির মনির বলেন, ‘ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর ২০০৯ সালে ভারত সরকার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণের সময় আইনজীবীর উপস্থিতি ও অডিও-ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।’

এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘আইন যুগোপযোগী করার বিষয়ে কী করা যায় সে জন্য আইন কমিশন আছে। আদালত চাইলে এ বিষয়ে আইন কমিশনের প্রতি নির্দেশনা দিতে পারেন।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘আইন কমিশনের সুপারিশ কি সরকার মানে? এ নিয়েও তো পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট দেখি। এরপর আদালত আদেশ দেন।’

মন্তব্য