kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সিপিডির সংলাপ

যাদের প্রয়োজন শুধু তারাই পাবে ত্রাণ : দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

বন্যায় বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এবারের বন্যায় ৩৩টি জেলার ৬.১ শতাংশ বা ৫০ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২ আগস্ট পর্যন্ত ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৩৫৭ কোটি টাকা। প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ৬৩৩ কোটি টাকার বেশি। বন্যায় সোয়া লাখ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দের ৬৩ শতাংশ খাদ্য বিতরণ হয়েছে। নগদ অর্থ বিতরণ হয়েছে ৬৮ শতাংশ। যদি সব বরাদ্দ বিতরণ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ মাথাপিছু পাবে মাত্র ১ দশমিক ৩ কেজি চাল এবং নগদ পাবে মাত্র পাঁচ টাকা ৭০ পয়সা করে। সরকারি এসব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে সিপিডি বলছে, বর্তমান বিতরণব্যবস্থায় মাত্র ৫৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি এবারের বন্যায় পরিবারগুলোকে এক মাসে অন্তত ৪৬ কেজি চাল দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বাড়তি ১১ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ সহায়তা দিতে বাড়তি ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

গতকাল বুধবার ‘সাম্প্রতিক বন্যা : ক্ষয়ক্ষতি ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, সুনামগঞ্জের ডিসি আব্দুল আহাদসহ অন্যরা। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘বন্যা শুরুর আগেই উদ্যোগ নিতে হবে। বন্যা মোকাবেলায় এডহক ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত বিশ বছর ধরে বন্যা থেকে যা শিখেছি, সেটা কি ব্যবহার করতে পেরেছি? পরিকল্পনা হচ্ছে বহু বছর ধরেই। গত ৬০ বছর ধরেই দেখছি নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চুয়াত্তর সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একসময় বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা হয়েছিল। এখন হয়েছে বদ্বীপ পরিকল্পনা। উজানে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ নদী কমিশন গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এটি শুধু নামকাওয়াস্তে।’ তিনি নিজের জীবনের ৮৫ বছর পার করার প্রসঙ্গ উল্লেখের সূত্রে আক্ষেপ করে জানান, জীবদ্দশায় পানি সমস্যার টেকসই সমাধান দেখে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।

প্রধান অতিথি দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমরা সবাইকে ত্রাণের আওতায় নিয়ে আসব না। যাদের প্রয়োজন শুধু তাদেরই ত্রাণ দেওয়া হবে।’ ত্রাণের অপ্রতুলতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে কিছু সময় বেশি লাগছে, তবে সব জায়গায় ত্রাণ যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ত্রাণভিত্তিক দুর্যোগ মোকাবেলার ব্যবস্থা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাইছি।’ এ সময় বন্যা সহনশীল বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘গ্রামের মানুষ বলছে—আমরা ত্রাণ চাই না, টেকসই বাঁধ চাই। গত বছরও এ রকম পরিস্থিতি হয়েছিল। দীর্ঘস্থায়ী বন্যা বলে যে হৈচৈ হচ্ছে সেটি সঠিক না। প্রতিবছরই পানি এসব জায়গায় বৃদ্ধি পায়। গণমাধ্যমে যে ছবি ছাপা হয় সেগুলো চরের ছবি। চর এলাকা পানিতে ডুববে, হাওর এলাকা পানিতে ডুববে—এটা স্বাভাবিক। কভিডের কারণে গত তিন-চার মাস সাধারণ মানুষের কাজ ছিল না, এখন পানি বৃদ্ধির ফলে তাদের কষ্ট আরো বেড়েছে।’ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্বল্প মেয়াদে সাহায্যের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। কভিডের সঙ্গে বন্যা যুক্ত হয়ে দ্বিমাত্রিক সমস্যা তৈরি হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকার দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য উঁচু করে বাঁধের মতো ‘বে’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা