kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নিজের বাসায় দগ্ধ চিকিৎসক দম্পতি

হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালার সময় সিগারেট বা কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের বাসায় দগ্ধ চিকিৎসক দম্পতি

রাজধানীর হাতিরপুলের বাসায় গত মঙ্গলবার রাতে অগ্নিদগ্ধ হন চিকিৎসক দম্পতি ডা. রাজীব ভট্টাচার্য ও ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলী। বর্তমানে তাঁরা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। ছবি : কালের কণ্ঠ

চিকিৎসক হিসেবে তাঁরা মানুষের সেবায় ছিলেন আন্তরিক। ছিলেন ভালো প্রতিবেশী। আগের দিনও তাঁরা অসুস্থদের সেবা দিয়েছেন। কিন্তু গতকাল তাঁদেরই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হয়েছে। যাঁদের কথা বলা হচ্ছে তাঁরা হলেন তরুণ চিকিৎসক দম্পতি ডা. রাজীব ভট্টাচার্য (৩৭) ও ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলী (৩২)। রাজধানীর হাতিরপুলে নিজেদের বাসায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন তাঁরা।

এর মধ্যে রাজীবের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁর শরীরের ৮৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্যামলীর শরীরের ২০ শতাংশ পুড়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে চিকিৎসক দম্পতির বাসায় আগুন লাগে। কিভাবে আগুন লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও প্রতিবেশীরা ধারণা করছে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে আগুনের সূত্রপাত।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজীব একটি বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢালছিলেন। তখন বোতল থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পড়ে গেলে মুখে থাকা সিগারেট বা পাশে থাকা মশার কয়েল থেকে আগুন ধরে যায়। এতে রাজীবের গায়ে আগুন ধরলে তাঁকে বাঁচাতে যান শ্যামলী। তখন দুজনই দগ্ধ হন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজীবকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। স্ত্রীর অবস্থাও গুরুতর। এখন আর কিছু বলা যাচ্ছে না।’

জানা যায়, গতকাল ভোর ৪টার দিকে রাজীব ও শ্যামলীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, ‘আমাদের কাছে যখন নিয়ে আসা হয়, তখন অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ডা. রাজীব ভট্টাচার্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক। ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলী একটি বেসরকারি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে কর্মরত।

জানা যায়, রাজীব ৩৬তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আকবর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য রাজীব সব সময় উদগ্রীব থাকেন। করোনা সময়েও কখনো অনুপস্থিত থাকতে দেখিনি।’

স্ত্রী ডা. অনুসূয়া ভট্টাচার্য শ্যামলী সেন্ট্রাল মেডিক্যাল চক্ষু বিভাগের রেজিস্ট্রার। দুজনের সহকর্মীরাই গতকাল হাসপাতালে ছুটে আসেন।

হাতিরপুল ইস্টার্ন প্লাজার পেছনের একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকেন রাজীব-শ্যামলী দম্পতি। তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়ে রাজশ্রী ভট্টাচার্য কুমিল্লার দেবীদ্বারে দাদার বাড়িতে আছে। করোনা পরিস্থিতিতে তাকে তিন সপ্তাহ আগে সেখানে রেখে আসা হয়।

রাজীবের চাচাতো বোন তপু ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটাতে রাজীব ভাইয়ের মা-বাবাকে জানানো হয়নি। ওনার বাবা লক্ষণ ভট্টাচার্য খুব অসুস্থ। মা সরস্বতী ভট্টাচার্যের শরীরও ভালো না।’

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্র কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনার সঠিক কারণ এখনো বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল থেকে ছোট বোতলে ঢালার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা