kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

আপনার প্রশ্ন ডাক্তারের পরামর্শ

কালের কণ্ঠ’র স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ক নিয়মিত আয়োজন আপনার প্রশ্ন, ডাক্তারের পরামর্শ। আপনাদের পাঠানো প্রশ্ন থেকে বাছাই করা কিছু প্রশ্নের পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মো. জুলহাস উদ্দিন
এমবিবিএস (ডিএমসি) এফসিপিএস এফসিসিপি (ইউএসএ) এফআরসিপি (ইউকে) বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ মার্কস মেডিক্যাল কলেজ

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপনার প্রশ্ন ডাক্তারের পরামর্শ

সমস্যা : আমার বয়স ৪৫, উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি। আমার সমস্যা হলো, প্রস্রাবে বেশ যন্ত্রণা হয়, ঘন ঘন অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হয়। হাঁচি ও কাশির সময়, নিচে বসে কাজ করলে, মসলা বাটলে, ঘর মুছলে, বেশি হাঁটতে গেলে প্রস্রাব চলে আসে। নাভি ও নাভির চারদিকে ব্যথাও আছে। আমাকে পরামর্শ দেবেন।

 

শিউলি রানী সরকার, ই-মেইলে।

 

পরামর্শ : আপনার উপসর্গগুলো জেনে মনে হচ্ছে প্রস্রাবে ইনফেকশন আছে। তবে সমস্যাগুলো অনেক দিনের যেহেতু তাই এটাকে বারবার অর্থাৎ Recurrent UTI বলা হয়। মাসিক বন্ধ হয়ে থাকলে এবং ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের ইতিহাস থাকলে জরায়ু নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কারণেও কাজের সময় প্রস্রাব নির্গত হওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। তার আগে কিছু টেস্ট করান যেমন : Urine R/E and C/S, USG of KUB, Serum Creatinine. অনেক দিনের সমস্যা বিধায় এসবের পাশাপাশি একটা IVU করে কিডনি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ মূত্রথলির গঠন প্রণালী দেখতে হবে। আপাদত Cap Cranbiotic 400mg দিনে দুইবার মাসখানেক খেয়ে দেখতে পারেন।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৩২ বছর। দুই-তিন মাস থেকে লক্ষ করছি, আমার ঊরুর ত্বকে ছোট ছোট কালো দাগ ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করছে। এতে কোনো চুলকানি কিংবা স্যাঁতসেঁতে ভাব নেই। এটা কেন হচ্ছে? এই দাগগুলো কিভাবে দূর করা যায়। আপনার মূল্যবান পরামর্শ কামনা করছি।

পারভেজ আহমেদ, ই-মেইলে।

 

পরামর্শ : ত্বকের দাগগুলো না দেখে আসলে রোগ নির্ণয় করা কঠিন। ছবি পাঠালেও কিছুটা ধারণা করা যেত। তবে মনে হচ্ছে অন্যান্য উপসর্গ যেহেতু নেই, সেহেতু চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে লক্ষ রাখুন।

সমস্যা : আমার বয়স ৫০, ওজন ৭৯ কেজি। আমার কভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এমনিতে কোনো উপসর্গ বা সমস্যা নেই। তবে বুকটা মাঝেমধ্যে বেশ ভার ভার লাগে। কয়েক দিন আগে সামান্য শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। হাসপাতালে যাব এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অক্সিমিটারে মেপে দেখি অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪/৯৫। তখন আর হাসপাতালে যাইনি। আমার জন্য পরামর্শ কী?

ছোটন মিয়া, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা।

 

পরামর্শ : কভিড প্রধানত ফুসফুসেরই রোগ। যেহেতু আপনার কভিড পজিটিভ, বুক ভার ভার লাগে আর শ্বাসকষ্টের ইতিহাস আছে, তাই Chest x-ray, CBC, CRP এই তিনটি পরীক্ষা করাতে পারেন। তবে কাশি বেশি নেই এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশনও যেহেতু ভালো সেহেতু চিন্তার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং কভিড টেস্টের পর থেকে যদি ১১-১২ দিন পার হয়ে যায় তবে আরো নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। এখন বিশ্রামে থাকুন, বেশি করে পানি খান। পরে কভিড-১৯ পরীক্ষাটা আবার করে নেবেন।

 

সমস্যা : আমার বয়স ৩৮, উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, ওজন ৭০ কেজি। আমার কয়েক বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ। কিন্তু ওষুধ খাচ্ছিলাম না। ইদানীং বেশ অস্বস্তি বোধ করায় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া শুরু করেছি। এখন কথা হলো, আমারও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও কি উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেয়ে যেতে হবে?

আতিকুর রহমান, ধামরাই, ঢাকা।

 

পরামর্শ : এটা সবার জানা থাকা দরকার যে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ শুরু করলে নিজে নিজে বন্ধ করা যায় না। যখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল তখনই আপনাকে ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাজ হলো উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে লেভেল করা এবং উপদেশ দেওয়া। রক্তচাপের ওষুধ তো ফার্মেসিওয়ালারাও দিতে পারে। যাই হোক, আপনি ওষুধ নিয়মিত চালিয়ে যাবেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফলোআপে থাকবেন।

ঘোষণা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক এ ধরনের পরামর্শ পেতে আপনার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত

সমস্যা লিখে আমাদের জানান [email protected] ই-মেইলে।

নাম, ঠিকানা, সমস্যা লেখার পাশাপাশি বয়স, উচ্চতা, ওজনও লিখে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা