kalerkantho

বুধবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৫ সফর ১৪৪২

সব আদালত খোলার দাবি শতভাগ আইনজীবীর

এম বদি-উজ-জামান   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশে নিয়মিত আদালত বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিষয়, বিশেষ করে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য সীমিত আকারে অনলাইনে আদালত খোলা রাখা হয়েছে। এই ভার্চুয়াল আদালতে মাত্র ১০ শতাংশ আইনজীবী যুক্ত হতে পেরেছেন। বাকি ৯০ শতাংশই বিচারকাজের বাইরে থাকায় এসব মামলার সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র-জুনিয়র ৫০ হাজারের বেশি আইনজীবী পড়েছেন আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় সারা দেশের ৬০ হাজার আইনজীবীর শতভাগেরই দাবি, সব আদালত খুলে দিতে হবে। তবে নিয়মিত আদালত, নাকি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সব আদালত খুলতে হবে, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আইনজীবীরা।

তবে বেশির ভাগ আইনজীবীই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁরা সক্রিয় হচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা সশরীরে মাঠেও নেমে পড়েছেন। এই দাবিতে সারা দেশে তাঁরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদীর নেতৃত্বে আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরেও মানববন্ধন করেছেন। এরই মধ্যে এই দাবিতে প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের সব আদালত প্রাঙ্গণে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন, প্রতিটি আদালতকক্ষের সামনে রিমোট থার্মোমিটার, পর্যাপ্ত স্যানিটাইজার, সাবানসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি করেছেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে আদালতগুলোতে প্রায় ৩৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। প্রায় সব মামলারই বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে লাখ লাখ বিচারপ্রার্থী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই বিপুলসংখ্যক মামলার বেশির ভাগেরই আইনজীবীদের আদালতে সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তাঁরা বলছেন, বিশেষ করে ১৫ লাখের বেশি দেওয়ানি মামলায় আইনজীবীর উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। এ কারণে নিয়মিত আদালত খোলা প্রয়োজন। এই মতের পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সব পর্যায়ের (সিনিয়র-জুনিয়র) বেশির ভাগ আইনজীবী। তাঁদের বক্তব্য, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অফিস, পরিবহন, হাট-বাজার চলতে পারলে আদালত চলবে না কেন?

তবে আইনজীবীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনই নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার পক্ষে নয়। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সব আদালত খুলে দেওয়ার দাবি তাদের। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অনেক আইনজীবী এই দাবিতে সোচ্চার। তাঁদের বক্তব্য, যেসব মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য রয়েছে বা সুপ্রিম কোর্টে বিচার পর্যায়ে রয়েছে, সেসব মামলায় অনলাইনে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেই বিচারকাজ চলতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব আদালত খুলে দেওয়ার দাবি সব আইনজীবীর। এই দাবি আমারও। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান অবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এ সব কিছু সঠিকভাবে মেনে চলা গেলে তবেই নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।’

অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন বলেন, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা কক্ষ থাকে। কিন্তু আদালতে বিচারকাজ চলার সময় আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ উপস্থিত হয়। সে ক্ষেত্রে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা যাবে কি না, সেটা দেখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অল্প কিছু মামলার বিচারকাজ করা যায়। তবে বেশির ভাগ মামলায় এটি সম্ভব নয়। যেমন—একটি অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণকালে কিছু নথি, জব্দ করা অস্ত্র প্রদর্শনের প্রয়োজন পড়ে। সেখানে সশরীরে উপস্থিতি ছাড়া কোনোভাবেই তা সম্ভব নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা