kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

বিবিএসের তথ্য

গড় আয়ু বেড়ে ৭২.৬ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বজুড়ে চলমান করোনা মহামারির মধ্যে দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির খবর দিয়েছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিবিএস। গড় আয়ু বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালের হিসাবে এ আয়ুষ্কালের তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৮ সালের হিসাবে গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৩ বছর। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ছিল ৭২ বছর এবং ২০১৬ সালে ছিল ৭১ দশমিক ৬ বছর।

বিবিএস জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ আট কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার আর নারী আট কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার। বিবিএসের ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০১৯’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের দুই হাজার ১২টি নমুনা এলাকার দুই লাখ ৯৮ হাজার ৮১০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই তথ্য দিয়েছে বিবিএস। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে ভার্চুয়াল সভায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে শিক্ষার হারসহ সামাজিক অনেক সূচকে অগ্রগতির চিত্র পাওয়া গেছে।

বিবিএস জানিয়েছে, দেশে এখন প্রত্যাশিত গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি। পুরুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ১ বছর, যা আগের বছর ছিল ৭০ দশমিক ৮ বছর। অন্যদিকে নারীদের গড় আয়ু এখন ৭৪ দশমিক ২ বছর। এর আগের বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৮ বছর এবং এর আগের বছর ৭৩ দশমিক ৫ বছর। মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক জানান, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তা ছাড়া খাদ্যগ্রহণ আগের চেয়ে বেড়েছে। পুষ্টিগ্রহণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক অগ্রগতি হয়েছে। মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। সব কিছু মিলিয়ে গড় আয়ু বেড়েছে।

বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তব্য দেন বিবিএসের উপমহাপরিচালক ঘোষ সুব্রত। প্রতিবেদনে খানার (পরিবারের) বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশে এখন আলোর উৎস হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে ৯৩.৫ শতাংশ পরিবার, যেটি ২০১৫ সালে ছিল ৭৭.৯ শতাংশ। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে ৮১.৫ শতাংশ পরিবারে, যেটি ২০১৫ সালে ছিল ৭৩.৫ শতাংশ। নলকূপের পানি ব্যবহার করছে ৯৮.১ শতাংশ পরিবার, ২০১৫ সালে করত ৯৭.৯ শতাংশ। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম জনগোষ্ঠী ৮৮.৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে ছিল ৮৮.২। হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যা এখন ১১.৬ শতাংশ, যা ২০১৫ সালে ছিল ১১.৮ শতাংশ।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বাড়েনি। নমুনা এলাকায় এই হার ৬৩.৪ শতাংশ। শহর এলাকায় নারীদের ৬৪.৪ শতাংশ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। অন্যদিকে গ্রামে ৬২.৭ শতাংশ নারী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। অর্থাৎ গ্রামের চেয়ে শহরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বেশি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়নে সঠিক তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, মাঠ পর্যায় থেকে বিশুদ্ধ তথ্য তুলে আনতে হবে। এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে যে তথ্য যত সঠিক হবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ততই বাস্তবসম্মত হবে। ইংরেজিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব বলেন, ‘দেশের উন্নতির যে কয়েকটি মূল সূচক প্রকাশ করা হয় তার প্রায় সব কটিই এই জরিপ থেকেই পাওয়া যায়। এর মধ্য দিয়ে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিমাপ করি।’ এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থ-সামাজিক অনেক সূচকেই বাংলাদেশের চেয়ে শুধু শ্রীলঙ্কা কিছু এগিয়ে আছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়ে পেছনে রয়েছে।

বিবিএস বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা (আনুমানিক) ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ। ২০১৮ সালের প্রতিবেদন তৈরির সময় দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ধরা হয়েছিল। সেই হিসাবে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার দাঁড়াচ্ছে ১.৩২ শতাংশ। বর্তমানে দেশে প্রতি হাজারে ২১টি শিশু এক বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যায়। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২। সাত বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৪.৪ শতাংশ, যা আগের বছর ৭২.৩ শতাংশ ছিল। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬.৫ শতাংশ আর নারীদের ক্ষেত্রে ৭২.৩ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা