kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

রাজধানীতে ভাঙাচোরা অনেক সড়ক

লায়েকুজ্জামান   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে ভাঙাচোরা অনেক সড়ক

রাজধানীজুড়ে বর্ষা এলেই চলে খোঁড়াখুঁড়ি। কাজের ধীরগতির কারণে নগরবাসীকে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় বছরের পর বছর যেমন পড়ে আছে মেরামতহীন সড়ক, অন্যদিকে উন্নয়নকাজের নামে বহু সড়কে ক্রমাগত চলে খোঁড়াখুঁড়ি। কিন্তু কাজের ধীরগতির ফলে নগরবাসীর ভোগান্তি আর কিছুতেই শেষ হচ্ছে না।

মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার থেকে যে সড়কটি পশ্চিম দিকে প্রধান সড়কে মিশেছে, ওই সড়ক ধরে চলতে গেলে মনে হবে বিল-ঝিলে ঘেরা গ্রামের কোনো পথ। ভাঙাচোরা, খানখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুসমান কাদা-পানি জমে যায়। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি মেরামত করা হচ্ছে না। সড়কটি মেরামতের দাবিতে এলাকাবাসী বহুবার মিছিল-মিটিং করেছে। কিন্তু স্থানীয় কাউন্সিলর, সংসদ সদস্য কিংবা মেয়র কেউই কর্ণপাত করছেন না।

ওই এলাকার বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী আবদুস সালেহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এ সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি হিসাব করি আমার বয়েসের সঙ্গে। ছোটবেলায় এ সড়কে যে কাদা-পানির মধ্যে বৃষ্টি হলে ফুটবল খেলতাম, এখনো সে অবস্থা। দেশে কতবার সরকার বদল হয়েছে, মেয়র, কাউন্সিলর বদল হয়েছে, কিন্তু সড়কটির কোনো পরিবর্তন হলো না।’ 

ওই এলাকার বৃদ্ধ নেয়ামত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ সড়কটি স্বাধীনতার আগে কাঁচা ছিল। এরপর ফেলা হয় সুরকি। এখন সেই সুরকির সঙ্গে যোগ হয়েছে কাদা-পানি।’

মিরপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘ত’ ব্লকের গলির সড়কগুলোর বেশির ভাগে খানাখন্দ। একই অবস্থা ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া পর্বতা ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কগুলোর বেশির ভাগে আশপাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি এসে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সড়কগুলোয় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মনিপুরীপাড়ার বাসিন্দা নাসিরউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সড়কের খানাখন্দ ও ময়লা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করছি। বর্তমান কাউন্সিলর কথা দিয়েছেন সমস্যার সমাধান করবেন, আমরা এখন সে অপেক্ষায় আছি।’

মিরপুরের কালশী সড়কটি প্রায় দুই বছর ধরে ব্যবহারের অযোগ্য। উন্নয়নকাজ চলছে। কালশী সড়কে নির্মিতব্য ফ্লাইওভারটি এসে মিলিত হবে ইসিবি চত্বরে। কালশী সড়কের বাসিন্দা নবী আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে উন্নয়নকাজ চলছে। এ নিয়ে আমাদের কথা নেই। তবে আমরা মনে করি, ফ্লাইওভারের কাজ চলছে ধীরগতিতে। দুই বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে সড়কের ধুলার কারণে এলাকার লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার বৃষ্টি হলে কালশী মোড়ে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমাদের দাবি, দ্রুত উন্নয়নকাজ শেষ করা হোক।’

ওই এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আহমেদ তুহিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনকে বারবার অনুরোধ করার পরও এই সড়কের গর্তগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। এসব গর্তের কারণে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।’

ভাসানটেক থেকে যে সড়কটি মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে মিশেছে, ওই সড়কে বর্তমানে নতুন করে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। নতুন ড্রেন বসানোর জন্য ওয়াসা রাস্তা খুঁড়ছে। এই সড়কটি খোঁড়ার কারণে গণপরিবহন চালুর পর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিরক্তিকর যানজট।

রাজধানীর বিজয়নগর মোড় থেকে পুরানা পল্টন মোড় পর্যন্ত এলাকার সড়কটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে ছয়-সাত মাস ধরে। ব্যস্ততম এই সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যান চলাচলে এখন এক চিলতে সরু সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

পুরানা পল্টন মোড়ের ব্যবসায়ী নেহাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না কী কারণে রাজধানীর এই কেন্দ্র এলাকায় মাসের পর মাস সড়ক খুঁড়ে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা