kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

যাত্রী গিজগিজ, মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব

করোনায় লঞ্চযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য লঞ্চে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হলেও মানা হচ্ছে না যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব। অনেক লঞ্চেই যাত্রী গিজগিজ করতে দেখা গেছে। এর ফলে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার বরিশাল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দিবা সার্ভিসের একটিসহ ছয়টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা নামতেই প্রতিটি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয়। লঞ্চের ডেকে যাত্রী গিজগিজ করছে। অবস্থা এমন ছিল যে পা ফেলারও  উপায় ছিল না। এমনকি লঞ্চের কেবিন জোন এলাকায়ও যাত্রী ওঠানো হয়েছে। সুন্দরবন-১০ লঞ্চের প্রবেশদ্বারে জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন করলেও অন্য লঞ্চ তা করেনি। ওই সব লঞ্চে যাত্রী ওঠার সময় তাদের হাত ও পায়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়েছে।  সুন্দরবন-১০ লঞ্চের যাত্রী মিন্টু সরদার বলেন, ডেকে একজনের শরীরের ওপরে আরেকজন উঠিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএর বরিশালের বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু জানান, গতকাল সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে লঞ্চ মালিকদের নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় যাত্রী পরিবহনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী নৌযান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সব মালিককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী ওঠানোর জন্য বলা হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চ তাদের যাত্রীর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী ওঠালেই সমাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা লঞ্চ ও বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সরকারের দেওয়া গাইডলাইন মেনে যানবাহন চলাচলের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই লঞ্চ ও বাস চলাচলের বিষয়ে মনিটরিং হবে। কোনো লঞ্চ কিংবা বাস যদি নির্দেশনা ভঙ্গ করে যাত্রী পরিবহন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের শুরুর দিনে গত রবিবার চাঁদপুরে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম থাকলেও তা আর ধরে রাখা যায়নি। গতকাল বাড়তি যাত্রীর কারণে নিয়ম শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে চাঁদপুর নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে হুড়মুড় করে যাত্রীরা উঠে পড়ে লঞ্চে।

ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর সদরঘাটের উদ্দেশে চারটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ছাড়ে। এ সময় লঞ্চে যথাযথভাবে শারীরিক দূরত্ব নিয়ে যাত্রীদের অবস্থান করতে দেখা যায়নি।

বিআইডাব্লিউটিএর উপপরিচালক ও চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আবুল বাসার মজুমদার বলেন, যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়; কিন্তু এখন যাত্রীর বাড়তি চাপ। লঞ্চ স্বল্পতার কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে বাড়তি আরো কিছু যাত্রীবাহী লঞ্চ চালু করা দরকার। তা না হলে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা দুঃসাধ্য হবে।

এদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথ খুলে দেওয়ায় ফেরির পাশাপাশি লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে সোমবার এ পথে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে লঞ্চ ও স্পিডবোটে মাক্স ছাড়া কোনো যাত্রীকে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলক কম হলেও কেউ মানছে না সামাজিক দূরত্ব। এতে করোনাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে একটি লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

গতকাল সোমবার কাঁঠালবাড়ী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। তবে ফেরি পারাপারে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার লঞ্চ ও স্পিডবোটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নিরাপত্তা সামগ্রী রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ী ঘাট পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের কারণে তানভীর-৪ নামের একটি লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা