kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

রাজধানীর লকডাউন চিত্র

ব্যস্ত হয়ে উঠছে রাস্তাঘাট, সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানী যেন ফিরছে পুরনো রূপে। রাস্তার পাশের সব দোকানপাট খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাসের ভয়ে থাকলেও নামছে রাস্তায়। প্রতিটি রাস্তা এখন রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিয়ন্ত্রণে যেন। ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা যায় উল্লেখযোগ্য হারে। রাস্তায় বের হওয়া বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরে চলাফেরা করছে। তবে বাজারে, পরিবহনে বা চলাচলে কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছে না। ভিড়ে ঠাসা বাজার-হাট, পথে গাদাগাদি করে চলছে সবাই। গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, রামপুরা, সায়েদাবাদ, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, রূপনগর, পল্লবী, কালশী, ভাটারা, আজিমপুর, লালবাগসহ কিছু এলাকায় ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

মিরপুর-১ নম্বরে গিয়ে দেখা যায়, ফলের দোকানে ভিড় করে আছেন কয়েকজন। তাঁদের একজন মাইনুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অতি সাধারণ মানুষ। ফল কিনতে এখানে এসেছি। অতিরিক্ত ফল কিনে নিয়ে গেলে নষ্ট হবে। আমার বেশি ফল কেনার সামর্থ্যও নেই। আমার মতো আরো অনেকেই প্রতিদিন বাজারে এসে করোনাভাইরাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। শুনেছি, এখন নাকি করোনাভাইরাসের লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না। পরীক্ষা করলে আসছে করোনা পজিটিভ। তাহলে মানুষ করবেটা কী?’

মিরপুর-১১ নম্বরের কালশী রোডের সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ডেইলি মার্ট নামে দোকানের মালিক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকারি সাধারণ ছুটিতে দোকান নিয়মিত খুলতে পারছি না। অন্য সময় দোকান খোলা রাখতাম সকাল ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। এখন দোকান খোলা রাখছি সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।’ দোকানে আসা ক্রেতারা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে সাধারণ মানুষ এখনো শারীরিক দূরত্ব মানতে চাইছে না। আমি যদি দোকান রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখি তখনো আমার দোকানে মানুষ আসবে। কেনাকাটা করতে দেখা যাবে লোকজনকে। কিন্তু ইফতারের আগে ক্রেতারা যখন সদাই কিনতে আসে তখন অনেকে দড়ি সরিয়ে ভেতরে চলে আসে। ক্রেতারা কোনোভাবেই শারীরিক দূরত্ব মানতে চায় না।’

রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে রাস্তায় তল্লাশি দেখা যায়নি। সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে দেখা যায় অনেকটা স্বাভাবিক দিনের মতোই। কয়েক দিন আগেও যাত্রাবাড়ী মোড় নীরব দেখা গেছে। কিন্তু গত ১০ মে থেকে দোকানপাট খোলার সরকারি অনুমতির পর এই মোড়টি ক্রমেই পুরনো রূপ ফিরে পাচ্ছে। শুধু বাস ছাড়া অন্য সব ধরনের পরিবহন চলতে দেখা যায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে। আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট খোলা থাকতে দেখা যায়। পাশের শহীদ ফারুক সড়কের দোকানপাটও খোলা। হানিফ উড়াল সড়কের নিচে সড়কের পাশে সার বেঁধে দাঁড় করানো সিএনজি অটোরিকশার চালকরা চেঁচিয়ে যাত্রী ডাকছেন। সেখানে দাঁড়ানো অটোরিকশার চালক শহীদ কালের কণ্ঠকে জানান, বাস না থাকায় তাঁরা দূরের যাত্রী পরিবহন করছেন বেশি। কাছাকাছি রাস্তায় রিকশা দিয়েই মানুষ চলাচল করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। আগে তেমন যাত্রী পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পুলিশ ঝামেলা করত। এখন পুলিশ কিছু বলে না বলে অটোরিকশা চালানো যাচ্ছে।’

সায়েদাবাদ বাস টর্মিনালে সারি সারি বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। লকডাউনের শুরু থেকেই বাসগুলো টার্মিনালে এভাবে রেখে দেওয়া হয়। বাস চলাচল না থাকায় সেখানে যানজট আগের মতো চোখে পড়েনি। তবে প্রচুর রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চলতে দেখা যায়। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রামপুরা এলাকায় দেখা গেছে, আগের মতোই রাস্তা দখল করে ফল ও বিভিন্ন ধরনের পোশাক বিক্রির দোকান বসানো হয়েছে। রাস্তার পাশে জুতা, ফানির্চার, পোশাকের দোকানগুলোও খোলা হয়েছে। ক্রেতাদের বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক দেখা গেছে।  

গতকালও লালবাগ কেল্লার মোড়, শহীদনগর বাজার, বউবাজার, বেড়িবাঁধ, আজিমপুর বটতলা, ছাপরা মসজিদসহ বিভিন্ন অলিগলিতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। খোলা ছিল এলাকার প্রায় সব দোকান। তবে কিছু ফাস্ট ফুড আইটেমের দোকান বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা