kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির গবেষণা

৯৬ পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত

২৬ এপ্রিল কারখানা খুলে দেওয়ার পর শনাক্ত হয়েছে বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে এ পর্যন্ত ৯৬ শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। করোনায় আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ শ্রমিক ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্প এলাকার। এর মধ্যে এক কর্মকর্তাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১০ পোশাক শ্রমিক ও একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। অন্যরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী। এ ছাড়া আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বয়স ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে। ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর। আর ১০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের ওপরে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার পর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন বেশি শ্রমিক। আক্রান্তের হিসাবে তা ৫২ শতাংশ। কারখানা চালুর পর তুলনামূলক কম দিনে বেশিসংখ্যক পোশাক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন।

৯ এপ্রিল থেকে গত বুধবার পর্যন্ত দেশের ২৫টি গণমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণাটি করে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। তবে আক্রান্ত ৯৬ জনের মধ্যে ১৪ জনের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল না তাঁরা কোন শিল্পের শ্রমিক। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে আক্রান্ত ১৪ জনই পোশাক শ্রমিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ জেলায় পোশাক শ্রমিকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মানে, আক্রান্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে জেলাগুলোতেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২৭ শতাংশ, সাভারে ২৫ শতাংশ, গাজীপুরে ১৪ শতাংশ, আশুলিয়ায় ৭ শতাংশ, ঢাকায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য জেলায় ২১ শতাংশ শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন।

গবেষণার ফল প্রকাশের পাশাপাশি সাত দফা দাবি তুলে ধরে তাসলিমা আক্তার বলেন, লকডাউন কার্যকর না হওয়া ও কারখানা খুলে দেওয়ায় পোশাক শ্রমিক ও দেশবাসী বিরাট স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক প্রবীর সাহা প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা