kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

মানবিকতায় দুস্থের মুখে ফুটছে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানবিকতায় দুস্থের মুখে ফুটছে হাসি

মালতী রাণী। ৭৫ ছুঁই ছুঁই এই বৃদ্ধা রংপুরের পীরগাছার কান্দি ইউনিয়নের কাবিলাপাড়া গ্রামে থাকেন একাকী। ভিক্ষা করে চলে দিনের পর দিন। করোনার এই সময়ে ঘরের বাইরে যেতে মানা। কয়েক দিন হলো মালতীর খুপরিটিতে আর উনুন জ্বলে না। ঘরে নেই এক ফোঁটা দানা। জীবনটাই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছে এক বেদনার কাব্য! এ রকম পরিস্থিতিতে মালতীর সামনে ত্রাতা হয়ে আসেন স্থানীয় থানার এক পুলিশ কর্তা। সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদুর রহমান তাঁর ঘরে নিজের বেতনের টাকায় নিয়ে গেলেন চাল, ডাল, তেল, লবণ ও সাবান। শুধু মালতী নয়, করোনা পরিস্থিতিতে অসহায়, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষ খুঁজে বের করে নিয়মিতই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন এইপুলিশ কর্তা।

৭০ বছর বয়সী নওগাঁর সাবিয়া বেগমের জীবনটাও আটকা ভিক্ষার চাকায়। এ পরিস্থিতিতে তাঁর দিনমানও ছন্দহীন। যেন পড়েছেন অথৈ সাগরে! খবর পেয়ে গভীর রাতে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশীদ তাঁর ঘরে পৌঁছে দেন খাদ্যসামগ্রী। এদিকে নওগাঁ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পেয়ে শহরের ধংকুরপাড়ার রিকশাচালক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আছমার অভিব্যক্তি ছিল এ রকম, ‘তামানের দোরে দোরে ঘুরিছি বা, কেউ হামাকোক কুনো ইলিফ দ্যায়নিকো। এই পুলিশ ছ্যারেরা অ্যাসা হ্যামাকের চোদ্দ জনের বাড়িত চাল, ডাল, আলু, সাবোন কত কি দিয়্যা গেল। কদিন থিনি ছোলপোল নিয়া খ্যায়া-নাখ্যায়া ছিনু।’

লাল মিয়া পেশায় ভ্যানচালক। এক সপ্তাহ ধরে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না। এমন সংকটে দিন কাটছে টাঙ্গাইলের সখীপুরের দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ছোটমৌশা গ্রামের লাল মিয়ার। এরই মধ্যে তিনি প্রতিবেশী একজনের কাছে শুনতে পান, ইউএনওর নম্বরে কল দিলে খাদ্য সহায়তা পাওয়া যায়। সেই কথা শুনে রবিবার রাতে ইউএনওকে ফোন করেন তিনি। ফোন পেয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা রাতেই খাদ্যসামগ্রী ও দুধ নিয়ে ভ্যানচালকের বাড়িতে যান।  

করোনার এই দুঃসময়ে মালতী, সাবিয়া, লাল মিয়াদের মতো অনেক গরিবের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন মানবিক অনেক মানুষ। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধিরাও বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহায়তার হাত।

চুয়াডাঙ্গায় মধ্যবিত্ত যারা কখনো ত্রাণ নেয়নি, তাদের বাড়িতেও পৌঁছে যাচ্ছে খাবারের প্যাকেট। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে এসব বাড়ি চিহ্নিত করে খাবারসামগ্রী পাঠিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

করোনার প্রভাবে কর্মহীন দুস্থ ও অসহায় ৩৫০ পরিবারের মাঝে কালের কণ্ঠ’র শুভসংঘের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীর সাহাপুর মন্ত্রী মোড়ের যুবক সমিতির মাঠে এসব খাদ্যসামগ্রী বিরতণ করা হয়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্থানীয় সংগঠন ‘অদম্য ৯৭ ব্যাচ’ শতাধিক শ্রমজীবী পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার নাওগাঁও ইউনিয়নের কৃষ্ঠপুর গ্রামে গতকাল কোচ সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কালিটি চা বাগানের শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপনের কথা জানতে পেরে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে করোনার এই সময়ে চিকিত্সা পরামর্শ দিতে রাজধানীর পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু করেছে বিনা মূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা। গতকাল থেকে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে। কল সেন্টারে ফোন করা যাবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। হটলাইন : ০৯১৩৭৮৭৮০০।

এ ছাড়া বগুড়া, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাজবাড়ী, ময়মনসিংহের ফুলপুর, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, রাজশাহীর বাঘা, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ভূঞাপুর, নওগাঁর ধামইরহাট ও রাণীনগর, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও বড়লেখা, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, যশোরের কেশবপুর, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, নড়াইলের লোহাগড়া, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জেও স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা